চলন্ত বাসে দাউদাউ আগুন! নিজের প্রাণ বাজি রেখে বাসের ছাদে উঠে আগুন নেভালেন ওসি
চলন্ত বাসে দাউদাউ আগুন! নিজের প্রাণ বাজি রেখে বাসের ছাদে উঠে আগুন নেভালেন ওসি
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ


চলন্ত বাসে দাউদাউ আগুন! নিজের প্রাণ বাজি রেখে বাসের ছাদে উঠে আগুন নেভালেন ওসি
কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: খিদিরপুরের ব্যস্ত রাস্তায় তখন আতঙ্কের চিৎকার। একটি চলন্ত বাসের ছাদে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন, আর নিচে আটকে রয়েছেন দিশেহারা যাত্রীরা। ঠিক সেই মুহূর্তে দেবদূতের মতো আবির্ভূত হলেন ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি। কোনও দমকলের অপেক্ষা না করে, নিজের প্রাণ বিপন্ন করে বাসের ছাদে উঠে পড়লেন তিনি। তাঁর এই অদম্য সাহসের কাহিনী এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কুর্নিশ জানিয়েছেন এই বীর পুলিশ অফিসারকে।
ঠিক কী ঘটেছিল খিদিরপুরে?
খিদিরপুরের ফ্যান্সি মার্কেটের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাসের ছাদে রাখা মালপত্রে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি: বাসের ওপরে ইলেকট্রিক তারের জাল, আর নিচে আতঙ্কিত যাত্রীদের ভিড়। ওপর থেকে আগুনের ফুলকি নিচে পড়তে শুরু করায় বড়সড় বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ওসির এন্ট্রি: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি কালক্ষেপ না করে একটি মই জোগাড় করেন।
ছাদে উঠে লড়াই: কোনো অগ্নিনির্বাপক পোশাক ছাড়াই বাসের ছাদে উঠে পড়েন তিনি। হাতের কাছে পাওয়া বালতি আর পাইপ দিয়ে একাই লড়াই শুরু করেন আগুনের সঙ্গে। তাঁর তৎপরতায় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্নিশ ও পুরষ্কার ঘোষণা
এই বীরত্বের খবর পৌঁছাতেই নবান্ন থেকে প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন:
"পুলিশ মানেই শুধু শাসন নয়, পুলিশ মানেই সেবা। ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে যেভাবে সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। আমরা তাঁকে সাহসিকতার পদক দিয়ে সম্মানিত করব।"
