রাজগঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
রাজগঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ


রাজগঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
পশ্চিমবঙ্গের রাজগঞ্জ ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এক মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
সূত্রের খবর, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত একটি মামলায় প্রশান্ত বর্মণের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—সে প্রশাসনিক আধিকারিকই হোক বা অন্য কেউ। আদালতের মতে, বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করাই সাংবিধানিক দায়িত্ব, আর তার অংশ হিসেবেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ সামনে আসতেই রাজগঞ্জ ব্লকে প্রশাসনিক স্তরে আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিডিও পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের এমন কড়া অবস্থান স্থানীয় প্রশাসনের কাজকর্মে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে চলা হবে এবং প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বার্তা বহন করে। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি পদে থেকে কেউ যদি আইনগত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তাঁকেও সাধারণ নাগরিকের মতোই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই ধরনের নির্দেশ ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কর্তাদের আরও সতর্ক করবে বলেও মত তাঁদের।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যের প্রশাসনে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করল। শাসক দলের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, বিষয়টি বিচারাধীন এবং আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানানোই সরকারের অবস্থান।
সব মিলিয়ে, রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ শুধু একটি ব্যক্তিগত আইনি ঘটনা নয়, বরং তা প্রশাসনিক দায়িত্ব, আইন মান্যতা ও সাংবিধানিক শাসনের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকছে। এখন সকলের নজর, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়।
