দেশের ১২টি রাজ্যে SIR প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে রয়েছে এই কাজ। কেন পিছিয়ে পড়ছে বাংলা? পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।

দেশের ১২টি রাজ্যে SIR প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে রয়েছে এই কাজ। কেন পিছিয়ে পড়ছে বাংলা? পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26দেশ

2/26/20261 min read

দেশের ১২ রাজ্যে চালু ‘SIR’, তবে কি ব্রাত্য বাংলা? শিক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দেশের ১২টি রাজ্যে সাফল্যের সাথে চালু হয়ে গেল বিশেষায়িত রাজ্য শিক্ষা ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা SIR (State Institute of Rehabilitation)। তালিকায় রয়েছে ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিও। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেখানে বাকি রাজ্যগুলো দ্রুত এই মডেল গ্রহণ করছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেন বারবার জটিলতা তৈরি হচ্ছে? রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নাকি প্রশাসনিক লালফিতের ফাঁস— ঠিক কোথায় আটকে রয়েছে বাংলার ‘SIR’?

১২ রাজ্যে সবুজ সংকেত, বাংলায় কেন লালবাতি?

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা এবং জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) আদলে দেশের অধিকাংশ রাজ্যই এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজ শেষ করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং যুবকদের আধুনিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া। ১২টি রাজ্যে ইতিমধ্যেই জমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে ফাণ্ড রিলিজের কাজ সম্পূর্ণ।

তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দৃশ্যটা ভিন্ন। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে দীর্ঘকাল। রাজ্যের অভিযোগ, এই মডেল বাস্তবায়নে কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া শর্তাবলী বাংলার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সাথে খাপ খাচ্ছে না। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কৃতিত্ব পাছে মোদী সরকার পায়, সেই ভয়েই রাজ্য সরকার ফাইল আটকে রেখেছে।

জটিলতার নেপথ্যে ৩টি প্রধান কারণ:

  1. ফাণ্ডিং প্যাটার্ন: ১২টি রাজ্যে যেখানে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ অর্থায়নে কাজ এগোচ্ছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের দাবি— প্রকল্পের সিংহভাগ খরচ কেন্দ্রকে বহন করতে হবে।

  2. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ: SIR-এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে (কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি নাকি রাজ্য শিক্ষা দফতর), তা নিয়ে তৈরি হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ।

  3. জমির সমস্যা: বিশেষায়িত এই প্রতিষ্ঠানের জন্য যে পরিমাণ সংলগ্ন জমির প্রয়োজন, তা ঘনবসতিপূর্ণ বাংলায় জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি নবান্নের।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে:

সিপিএম এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বের দাবি, সরকার যেই হোক না কেন, উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্যের মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। বামেদের মতে, "সরকার নেই বা হলো, কিন্তু পরিকাঠামো তো দরকার।" অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজ্যকে বঞ্চিত করার জন্য কেন্দ্র ক্রমাগত নতুন নতুন শর্ত যোগ করছে।

ভবিষ্যৎ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২টি রাজ্যের উদাহরণ সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে বিশেষ শিক্ষা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়বে বাংলা। দিল্লির সবুজ সংকেত এবং নবান্নের সদিচ্ছা— এই দুইয়ের মেলবন্ধন না ঘটলে SIR-এর স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বাংলার মানুষের কাছে।