সচল হয়েও অচল! এবার কি চিরতরে বিদায় নিচ্ছে ‘আদুলি’? বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে আরবিআই

সচল হয়েও অচল! এবার কি চিরতরে বিদায় নিচ্ছে ‘আদুলি’? বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে আরবিআই

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গবিহারভোট 26দেশ

2/17/20261 min read

সচল হয়েও অচল! এবার কি চিরতরে বিদায় নিচ্ছে ‘আদুলি’? বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে আরবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদন: মানিব্যাগ বা ড্রয়ারের কোণে পড়ে থাকা সেই রুপোলি রঙের আট আনা বা ‘আদুলি’ কি এবার জাদুঘরের বস্তু হতে চলেছে? দীর্ঘকাল ধরে বাজারে ব্রাত্য হয়ে থাকা ৫০ পয়সার মুদ্রা নিয়ে এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। সূত্রের খবর, বাজারে এই মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এটি চিরতরে তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

কেন এই ভাবনা?

৫০ পয়সা বা আট আনা এখনও আইনিভাবে ‘সচল’ (Legal Tender), কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

  • বাজারে ব্রাত্য: বাস কন্ডাক্টর থেকে শুরু করে পাড়ার মুদি দোকান—কেউই এখন আর ৫০ পয়সা নিতে চান না। উল্টে ৫০ পয়সা দিলে অনেক সময় গ্রাহকদের সাথে বিবাদও বাধে।

  • উৎপাদন খরচ: মুদ্রাস্ফীতির কারণে ৫০ পয়সার মুদ্রার ধাতব মূল্য এবং তা তৈরির খরচ তার ফেস ভ্যালু বা মূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ব্যাঙ্কের অনীহা: সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কও এই ক্ষুদ্র মুদ্রা জমা নিতে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ।

আরবিআই-এর বর্তমান অবস্থান

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বারবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ৫০ পয়সা বা তার বেশি মূল্যের সমস্ত মুদ্রা এখনও বৈধ। কিন্তু ‘সচল’ হয়েও কাজের ক্ষেত্রে এই মুদ্রা এখন ‘অচল’। এই বৈপরীত্য দূর করতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদি এই কমিটি মনে করে যে ৫০ পয়সার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, তবে খুব শীঘ্রই এটি আইনিভাবে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার (Withdrawal) নির্দেশ আসতে পারে।

আগেও বন্ধ হয়েছে ছোট মুদ্রা

এর আগে ২০১১ সালে ২৫ পয়সা বা ‘সিকি’ আইনত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারও আগে ১ পয়সা, ২ পয়সা, ৫ ও ১০ পয়সা বিলুপ্ত হয়েছে। এবার কি সেই পথেই হাঁটতে চলেছে আধুলি? প্রশ্নটা এখন সময়ের।

সাধারণ মানুষের করণীয় কী?

যতক্ষণ না আরবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুদ্রা বাতিলের বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে, ততক্ষণ ৫০ পয়সা আইনি টেন্ডার হিসেবেই গণ্য হবে। কেউ এটি নিতে অস্বীকার করলে তা আইনত অপরাধ। তবে নবান্ন বা আরবিআই যদি শেষ পর্যন্ত এটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে এই মুদ্রা ব্যাঙ্কে জমা করার জন্য।