সাঁকরাইল কি এবারও ঘাসফুলের দুর্ভেদ্য দুর্গ? তৃণমূলের অন্দরে কি বদলের সুর?
সাঁকরাইল কি এবারও ঘাসফুলের দুর্ভেদ্য দুর্গ? তৃণমূলের অন্দরে কি বদলের সুর?
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


সাঁকরাইল কি এবারও ঘাসফুলের দুর্ভেদ্য দুর্গ? তৃণমূলের অন্দরে কি বদলের সুর?
হাওড়া জেলার তফশিলি জাতি সংরক্ষিত আসন সাঁকরাইল বরাবরই রাজনীতির এক বিশেষ ভরকেন্দ্র। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই কেন্দ্রটি দীর্ঘকাল ধরে ডানপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। এককালে কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট এখানে অবিচ্ছেদ্য থেকেছে। কিন্তু ২০২৬-এর দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে সাঁকরাইলের রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলাতে চলেছে?
শীতল সর্দার থেকে প্রিয়া পাল: উত্তরাধিকার বনাম নতুন মুখ
সাঁকরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে শীতল সর্দার এক দীর্ঘ অধ্যায়। প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে তিনি দীর্ঘদিন এই এলাকার বিধায়ক ছিলেন। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল তাদের রণকৌশল বদল করে। শীতল সর্দারের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় নতুন মুখ প্রিয়া পাল-কে। বর্তমানে প্রিয়া পালই এলাকার বিধায়ক, তবে তাঁর কাজের ধরণ এবং পুরোনো কর্মীদের সাথে সমন্বয় নিয়ে এলাকার রাজনীতিতে নানা চর্চা বহাল রয়েছে।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান
২০২১ সালের নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী, সাঁকরাইলের রাজনৈতিক চিত্রটি ছিল নিম্নরূপ:
বিষয়তথ্য (২০২১ নির্বাচন)মোট ভোটারপ্রায় ২,৭৮,০০০+মোট বুথ সংখ্যাপ্রায় ৩৫০টি (অস্থায়ী বুথসহ)বিজয়ী প্রার্থীপ্রিয়া পাল (TMC)প্রাপ্ত ভোট১,১৩,৭০৪ (প্রায় ৫০%)নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীপ্রভাকর পণ্ডিত (BJP)ভোটের ব্যবধান৪২,০০০-এর বেশি ভোটে জয়ী
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: 'তোলাবাজি' বনাম 'উন্নয়ন'
এলাকার মানুষের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে দুটি ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। একদলের মতে, বর্তমান বিধায়কের আমলে এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন মজবুত হয়েছে। অন্যদলের দাবি, পুরোনো পোড়খাওয়া নেতাদের গুরুত্ব কমেছে এবং 'তোলাবাজি' বা দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—আদতে কি বিধায়ক এলাকার মানুষের সত্যিকারের সমস্যার সমাধান করছেন, নাকি প্রশাসনের আড়ালে অন্য গোষ্ঠী শক্তিশালী হচ্ছে? ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের নিরিখেও তৃণমূল এখানে লিড ধরে রাখলেও, বিজেপির ভোট শতাংশ বৃদ্ধি শাসক শিবিরের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
সাঁকরাইলের ভোটাররা বরাবরই উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে ২০২৬-এর আগে প্রিয়া পালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখা। নতুন কোনো প্রার্থী আসবে নাকি প্রিয়া পালের উপরেই ফের ভরসা রাখবে ঘাসফুল শিবির, সেটাই এখন দেখার।
