অসমের ভোটার তালিকায় বড় 'সার্জারি': কয়েক লক্ষ সন্দেহভাজনের নাম বাদ, দাবি হিমন্তের

অসমের ভোটার তালিকায় বড় 'সার্জারি': কয়েক লক্ষ সন্দেহভাজনের নাম বাদ, দাবি হিমন্তের

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26দেশ

2/12/20261 min read

অসমের ভোটার তালিকায় বড় 'সার্জারি': কয়েক লক্ষ সন্দেহভাজনের নাম বাদ, দাবি হিমন্তের

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে অসমের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে ভোটার তালিকার এই রদবদল। বুধবার এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক লক্ষ ভুয়ো এবং সন্দেহভাজন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ইতিমধ্যেই চড়তে শুরু করেছে রাজনীতির পারদ।

কেন এই পদক্ষেপ? মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি:

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এদিন স্পষ্ট জানান যে, অসমের জনবিন্যাস (Demography) রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। তাঁর মূল পয়েন্টগুলি হলো:

  • বিজেপির অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিজেপির কার্যকর্তারা বুথ স্তরে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছিলেন যে বহু জায়গায় অনুপ্রবেশকারী বা সন্দেহভাজন নাগরিকরা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। আমরা সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছিলাম।"

  • সংশোধন প্রক্রিয়া: কমিশনের তদন্তে ওই অভিযোগের সত্যতা মেলায় কয়েক লক্ষ নাম কাটা গিয়েছে। হিমন্তের দাবি, "এর ফলে অসমের ভূমিপুত্রদের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত হলো।"

  • জনবিন্যাস রক্ষা: মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কিছু বিশেষ এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার বৃদ্ধি পাচ্ছিল, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক ছিল।

বিরোধীদের পালটা অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ (AIUDF)। বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকীয়ার অভিযোগ:

  • টার্গেট পলিটিক্স: বিরোধীদের দাবি, বেছে বেছে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • গণতান্ত্রিক অধিকার হনন: প্রকৃত নাগরিকদের নামও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

"অসমের মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এই নতুন ভোটার তালিকা। আমরা কোনো অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্যের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে দেব না।" — হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মুখ্যমন্ত্রী

ভোটার তালিকা ও অসমের বর্তমান পরিস্থিতি

অসমে গত কয়েক বছর ধরেই এনআরসি (NRC) এবং নাগরিকত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে। ২০২৬-এর এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নির্বাচনী ফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।