মোদী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক বহাল, সংঘাতের আবহে মুখোমুখি কেন্দ্র ও শ্রমিক সংগঠন

মোদী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক বহাল, সংঘাতের আবহে মুখোমুখি কেন্দ্র ও শ্রমিক সংগঠন

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26দেশ

2/11/20261 min read

মোদী সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক বহাল, সংঘাতের আবহে মুখোমুখি কেন্দ্র ও শ্রমিক সংগঠন

কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি, শ্রম আইন সংশোধন, বেসরকারিকরণ ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল একাধিক কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। শ্রমিক সংগঠনগুলির স্পষ্ট বার্তা— দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলনের পথেই হাঁটা হবে।

সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে এমন সব নীতি নেওয়া হয়েছে যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিক, কৃষক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের উপর। শ্রম আইনকে সহজ করার নামে শ্রমিকদের সুরক্ষা কমানো হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ বাড়ানো হয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে— এমনই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, একাধিকবার আলোচনার দাবি জানানো হলেও কেন্দ্রের তরফে কার্যকর সাড়া মেলেনি। ফলে ধর্মঘট ছাড়া অন্য পথ খোলা নেই বলেই দাবি তাঁদের। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে মিছিল, পথসভা ও প্রচার শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্ক, বিমা, কয়লা, পরিবহণ সহ একাধিক ক্ষেত্রে আংশিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রের তরফে এই ধর্মঘটকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, অর্থনৈতিক সংস্কার দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য জরুরি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলনের ফলে সাধারণ মানুষই ভোগান্তির শিকার হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধর্মঘট আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতেরই প্রতিফলন। একদিকে অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র, অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠন ও বিরোধী শিবিরের অভিযোগ— উন্নয়নের নামে সামাজিক সুরক্ষা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন উঠছে, এই সংঘাতের মাশুল শেষ পর্যন্ত দেবে কে? নীতির লড়াইয়ে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলির অবস্থান স্পষ্ট হলেও, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়— এমন আশঙ্কা বারবার সামনে এসেছে অতীতের ধর্মঘটগুলিতেও।

বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট কতটা সফল হয়, আর তার রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা দূর পর্যন্ত গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। কেন্দ্র ও শ্রমিক সংগঠনের এই সংঘাত যে আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে, সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।