উত্তরবঙ্গের হোটেলে ফের বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত! 'তারেক আমলের' দীর্ঘনিষেধাজ্ঞা অবশেষে অতীত

উত্তরবঙ্গের হোটেলে ফের বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত! 'তারেক আমলের' দীর্ঘনিষেধাজ্ঞা অবশেষে অতীত

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গঢাকাবিদেশরাজনীতি

2/25/20261 min read

উত্তরবঙ্গের হোটেলে ফের বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত! 'তারেক আমলের' দীর্ঘনিষেধাজ্ঞা অবশেষে অতীত

নিজস্ব প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের এক অলিখিত এবং প্রশাসনিক জটিলতার অবসান। এবার থেকে উত্তরবঙ্গের হোটেল, লজ এবং রিসর্টগুলিতে অনায়াসেই থাকতে পারবেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (যাকে অনেকে 'তারেক আমল' বা সেনা সমর্থিত আমলের বিধিনিষেধ হিসেবে চিহ্নিত করেন) শুরু হওয়া কড়াকড়ি ও সাম্প্রতিক বছরগুলির নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল অবশেষে ছিন্ন হলো।

পর্যটন মহলে খুশির হাওয়া

শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং সিকিম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বাংলাদেশি অতিথিদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ থাকায় পর্যটন ব্যবসায় বড়সড় ধস নেমেছিল। ফেডারেশন অফ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FOCIN) এবং উত্তরবঙ্গের হোটেল মালিকদের সংগঠনের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই সাফল্য এল।

কেন এই পরিবর্তন?

  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: কোভিড এবং পরবর্তী সময়ে পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

  • সরকারি ছাড়পত্র: কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পর্যটকদের নথিপত্র (পাসপোর্ট ও ভিসা) সঠিকভাবে জমা নেওয়ার শর্তে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • সি-ফর্ম (C-Form) সরলীকরণ: এখন থেকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় 'সি-ফর্ম' জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল এবং সহজ করা হয়েছে, যাতে হোটেল মালিকরা কোনো আইনি ঝামেলায় না পড়েন।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

শিলিগুড়ির এক হোটেল মালিকের কথায়, "বাংলাদেশি পর্যটকরা শুধু ঘুরতে আসেন না, উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা পরিষেবা এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রেও তাঁদের বড় অবদান থাকে। তারেক রহমানের আমল থেকে যে অলিখিত জটিলতা শুরু হয়েছিল, তা কেটে যাওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি।"

সীমান্ত বাণিজ্য ও সম্প্রীতি

এই সিদ্ধান্তের ফলে ডুয়ার্স, কালিম্পং এবং শিলিগুড়ি শহরে পর্যটকের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুলবাড়ি এবং চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে আসা পর্যটকরা সরাসরি শিলিগুড়ির হোটেলগুলিতে উঠতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।