বেতন বকেয়া, তবু বাড়ছে চাপ—বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ বিলির নির্দেশে ক্ষোভ, কমিশন ও রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন
বেতন বকেয়া, তবু বাড়ছে চাপ—বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ বিলির নির্দেশে ক্ষোভ, কমিশন ও রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


বেতন বকেয়া, তবু বাড়ছে চাপ—বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ বিলির নির্দেশে ক্ষোভ, কমিশন ও রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন
ভোটের মুখে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) উপর চাপ যে ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে, তা আর আড়াল করার উপায় নেই। একদিকে প্রাপ্য ভাতা ও বকেয়া নিয়ে অসন্তোষ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ—বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করতে হবে। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলেই জানা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের যুক্তি স্পষ্ট—ভোটারদের হাতে সরাসরি স্লিপ পৌঁছে দিলে ভোটের দিন বিভ্রান্তি কমবে এবং ভোটদানের হার বাড়বে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই পরিকল্পনার বাস্তব বোঝা কার কাঁধে পড়ছে? বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে তথ্য যাচাই, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি—সব কাজের পর এবার আবার বাড়ি বাড়ি স্লিপ বিলির দায়িত্বও বিএলওদের ঘাড়েই চাপানো হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নীতিনির্ধারণের টেবিলে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া যত সহজ, মাঠে নেমে তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। বহু বিএলও অভিযোগ করছেন, পর্যাপ্ত পরিবহন, নিরাপত্তা বা ভাতা ছাড়াই তাঁদের এই কাজ করতে হচ্ছে। অথচ দায়িত্ব পালনে সামান্য ত্রুটি হলেই জবাবদিহির মুখে পড়তে হয় তাঁদেরই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বৃহত্তর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিফলন। ভোটের আগে নিখুঁত প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, সেই প্রস্তুতির ভিত্তি যে কর্মীরা তৈরি করেন, তাঁদের সমস্যার সমাধানে ততটা তৎপরতা দেখা যায় না—এই অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সরব হয়ে বলছে, নির্বাচনী ব্যবস্থার সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে সবাই এগিয়ে আসে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রাপ্য ও পরিশ্রমের প্রশ্নে নীরবতা দেখা যায়। শাসকদলের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, কমিশনের নির্দেশ মেনেই প্রশাসন কাজ করছে এবং কর্মীদের সমস্যার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে বাস্তব ছবি অন্য কথা বলছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। ভোটের প্রস্তুতির চাপ যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—নির্বাচনের বিশাল যন্ত্রকে সচল রাখার মূল ভার যাঁদের কাঁধে, তাঁদের অবস্থাই সবচেয়ে নাজুক। নির্দেশের পর নির্দেশ, দায়িত্বের পর দায়িত্ব—কিন্তু প্রাপ্য, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর প্রশ্নে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। আর সেই কারণেই বিএলওদের ক্ষোভ এখন আর চাপা থাকছে না; তা ধীরে ধীরে প্রশাসনের অন্দরমহল পেরিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।
