২৬-এর ভোটের আগে টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগে তপ্ত রাজনীতি, বিজেপিকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন

২৬-এর ভোটের আগে টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগে তপ্ত রাজনীতি, বিজেপিকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/7/20261 min read

২৬-এর ভোটের আগে টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগে তপ্ত রাজনীতি, বিজেপিকে ঘিরে তীব্র প্রশ্ন


প্রার্থী বাছাইয়ে সাংসদদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ—মাঠে ক্ষোভ, অস্বীকার দলের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরমহলে বাড়ছে ক্ষোভ ও বিতর্ক। বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী এবং দলীয় কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, টিকিট পেতে নাকি বিপুল অঙ্কের অর্থের চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন সাংসদের নাম ঘুরছে বলে দাবি উঠছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও সরকারি বা প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি, তবুও মাঠের রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপা অসন্তোষ স্পষ্ট।

মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা যাচ্ছে, বহু পুরনো কর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন—সংগঠনের দীর্ঘদিনের কাজ, জনসংযোগ বা আন্দোলনের ভূমিকা কি আর টিকিট পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি থাকছে? নাকি অর্থ ও লবিংয়ের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে চায়ের দোকান থেকে দলীয় কার্যালয়—সব জায়গায়।

বিরোধী দলগুলিও এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট এবং এই ধরনের অভিযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক বার্তা দেয়। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে টিকিট বণ্টন যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তবে ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও আঘাত পায়।

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, প্রার্থী নির্বাচন একটি সুসংহত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয় এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন যত কাছে আসে, টিকিট বণ্টনকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে—এটাই স্বাভাবিক। তবে যখন সাংসদদের নাম জড়িয়ে অভিযোগ ওঠে এবং তা মাঠপর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা দলের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করার লড়াইয়ের মধ্যেই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, প্রার্থী বাছাই নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।