৮১ হাজার বিএলও বেতনহীন, রাজ্যকে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের—ভোটের আগে বাড়ছে চাপ

৮১ হাজার বিএলও বেতনহীন, রাজ্যকে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের—ভোটের আগে বাড়ছে চাপ

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/8/20261 min read

৮১ হাজার বিএলও বেতনহীন, রাজ্যকে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের—ভোটের আগে বাড়ছে চাপ

ভোটের মুখে প্রশাসনিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে প্রায় ৮১ হাজার বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) বেতন ও ভাতা বকেয়া থাকার ঘটনায় রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় চিঠি দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—যারা ভোটার তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান, তাঁদের প্রাপ্য না মেটানো হলে নির্বাচনী প্রস্তুতিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চিঠিতে রাজ্যের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন এত বিপুল সংখ্যক বিএলও দীর্ঘদিন ধরে বেতনহীন অবস্থায় কাজ করছেন এবং কবে এই বকেয়া মেটানো হবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে বলা হয়েছে। কমিশনের একাংশের মতে, মাঠপর্যায়ের এই কর্মীদের উপরেই নির্ভর করে ভোটার তালিকার সংশোধন, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি ও তথ্য যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেখানে তাঁদের আর্থিক প্রাপ্য আটকে থাকা মানে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার ভিতেই ফাটল ধরা।

প্রশাসনিক মহলের অন্দরেও এই নিয়ে চাপ বাড়ছে। কারণ, কমিশনের এই চিঠিকে অনেকেই শুধুমাত্র একটি রুটিন তাগাদা হিসেবে দেখছেন না, বরং ভোটের আগে রাজ্যের প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেয় না—ফলে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হচ্ছে।

বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার উন্নয়নের প্রচারে যতটা সক্রিয়, মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী কাজ করা কর্মীদের প্রাপ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ততটাই উদাসীন। যদিও শাসকদলের দাবি, বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধান করা হবে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে বিএলওদের বেতন-বকেয়া ইস্যু শুধুমাত্র প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি সরাসরি নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সরকারের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তার পর রাজ্য কত দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।