রিলসের দাপটে পিছু হটছে 'রিয়েল', বিহারে বদলেছে ভোট প্রচারের রূপ


বছরের ওই কটা দিনইতো নেতারা ভোটারের দুয়ারে আসেন। হাসি মুখে অভাব অভিযোগ শোনেন। এরপর এলাকায় মিটিং-মিছিল করে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটের পরে আবার ভুলেও যান। কিন্তু পরের বার আবার আসেন, শোনেন, প্রতিশ্রুতি দেন। এইতো ভোটের প্রচারের স্বাভাবিক চিত্র। কিন্তু এখন নেতারা আসছেন, বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন চলে যাচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গেই আরেকদল এসে শাসকদলের মুণ্ডপাত করে চলে যাচ্ছে। আর এসবই হচ্ছে মোবাইলে আঙুলের ইশারায়। রিলস বা সর্ট ভিডিও এবারের বিধানসভা ভোটের প্রচারে সারা ফেলে দিয়েছে বিহারে। সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই এখন জনমত গঠনের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। যেখানে নির্বাচনী স্লোগান এখন রিলসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, আর বিরোধী পক্ষের উপর আঘাত হানা হচ্ছে মিমের মাধ্যমে। এটাই ‘ডিজিটাল রাজনীতির’ যুগ, যেখানে জনগণের মতামত নির্ধারিত হচ্ছে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার-এর উপর ভিত্তি করে।
মানুষের মনের কথাও প্রতিফলিত হচ্ছে
মঞ্চে নেতা ভাষণ দেবে আর মানুষ নিচে বসে হাততালি বাজাবে সেই দিনের ইতি ঘটেছে। নেতার ভাষণে লাইক দিয়ে ভোটার নিজের সম্মতির ইঙ্গিত দিতে পারেন। কমেন্টে গিয়ে একটু প্রশংসা করতে পারেন। আবার পছন্দ না হলে তাও জানাতে পারেন। আর মানুষের এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় নজর রাখছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই বুঝে পরবর্তী ভিডিও তৈরি হয়। এই পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে জেডিইউ, আরজেডি, বিজেপি ও কংগ্রেস সহ সব প্রধান রাজনৈতিক দল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া সেলকে প্রচারের কাজে ব্যবহার করছে। তেজ প্রতাপ যাদব, সঞ্জয় জয়সওয়াল এবং সম্রাট চৌধুরীর মতো নেতারা নিয়মিত রিলস ও লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে জনসংযোগ করছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন "ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট"-ই রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। নেতাদের প্রতিদিনকার বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া মিম ও রিল ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হচ্ছে। এরফলে একদিকে মানুষ নেতা ও দলগুলোর উপর নজর রাখছে তেমনই তারাও মানুষের 'মন কি বাত' শোনার চেষ্টা করছে।
কম সময়ে প্রভাব বেশি
অস্ত্র ছোট কিন্তু খুবই শক্তিশালী। সোশ্যাল মিডিয়াকে এভাবেই দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো। আগে যেখানে বড় জনসভা ছিল প্রচারের প্রধান উপায়, এখন সেখানে ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ আর ব্যাঙ্গাত্মক মিমই জনতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিহারের ভোটারদের মনোভাবকে দিকনির্দেশ করছে। তবে এটাও পরিষ্কার যে, ২০২৫ সালের বিধানসভা যুদ্ধ শুধু মাঠে নয়, স্ক্রিনেও সমান তীব্র ও আক্রমণাত্মক হচ্ছে।
নজর রাখছে কমিশন
রাজনৈতিক দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে বিরোধী দলগুলিও কনটেন্ট তৈরি, রিলস বানানো ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে পেইড প্রমোশন, রিলস নির্মাণ এবং প্রভাবশালী (ইনফ্লুয়েন্সার) মার্কেটিংয়ে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ৭৫ দিনের মধ্যে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের সম্পূর্ণ হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যার ফলে নির্বাচনের পরে প্রকৃত ব্যয়ের চিত্র স্পষ্ট হবে।
#Biharelection #Election Commission #বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫
Address
3721 2nd Street
Saltlake Sector V, Kolkata 700 091
Contacts
+91 98300 71925
Contract.subhendu.etv@gmail.com
