বড় বেলুনের বড়মা, কীভাবে এই কালীপুজো শুরু হয়েছিলো? জানলে গায়ে কাঁটা দেবে


পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড় বেলুন। কালীপুজোর দিন এখানে পুজো হয় বড়মার। মন্দিরেই ১৮ হাত উচ্চতার গগনচুম্বী মূর্তি তৈরি করা হয়। যা দুর্গাপুজোর পর ত্রয়োদশীর দিন কাঠামো তৈরির মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। রাতে মূর্তি গড়ার কাজ করা হয় মশালের আলোয়। পুজোর দিন রং করা হয় প্রতিমা। সন্ধ্যায় ডাকের সাজে ঠাকুর সাজিয়ে তোলা হয়। এসব শেষ হলে পুরোহিত এসে মায়ের চক্ষুদান করেন। তারপর শুরু হয় পুজো। রাতভর চলে পুজো ও বলিদান পর্ব। বহুদূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন পুজো দিতে। এখানকার ভট্টাচার্য পরিবার এই পুজোর সেবাইত। বর্তমানে ৩৫ টি পরিবার ট্রাষ্টি করে পুজো চালান।
কীভাবে পুজোর সূচনা হলো
জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে সাধক ভৃগুরামের হাত ধরে এই পুজো শুরু হয়। কেতুগ্রামের বহুলা পীঠ থেকে তিনি এখানে এসেছিলেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে ওই এলাকায় শ্মশানের ধারে পর্নকুটির বানিয়ে বসবাস শুরু করেন। এলাকার মানুষ ওই সাধককে বুড়োগোঁসাই নামে ডাকতো। এলাকার মানুষের মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, একদিন বিল্বপত্তনের রাজা নারায়ণ চন্দ্র রায়ের কুমারী কন্যা সর্পাঘাতে মারা যান। সেই রাজকন্যার দেহ বড়বেলুনের শ্মশানে নিয়ে আসা হয় দাহ করার জন্য। দেহটি শ্মশানে পৌছানোর পর ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। শববহনকারীরা শ্মশানে দেহ রেখে একটু দূরে আশ্রয় নেন। ভৃগুরাম মৃতদেহের ওপর শ্মশানের চিতাভষ্ম ছিটিয়ে দিলে আশ্চর্যভাবে বেঁচে ওঠেন রাজকন্যা। শববহনকারীরা পরে এসে দেখেন মৃতা রাজকন্যা জীবিত। দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে ওই মেয়েকেই বিয়ে করেন ভৃগুরাম। একইসঙ্গে দেবী বিশালাকার রূপ ধারণ করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ভৃগুরামকে। তারপর থেকে বড়বেলুন গ্রামে ১৮ হাত উচ্চতার মূর্তি বানিয়ে পুজো শুরু হয়।




এখনো পর্যন্ত সেই নিয়মেই পুজো হয়ে আসছে
ভৃগুরামের বংশধরেরাই ২১ পুরুষ ধরে এই পুজো করে আসছেন। শাক্তমতে হয় পুজো। বিশালাকার দেবীমূর্তি রথে চাপিয়ে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ভাতৃদ্বিতীয়ায় ফোঁটা দিয়ে দেবীকে বিসর্জন করা হয় বড়দিঘিতে।
#বড়মা #বড়বেলুন #বড়বেলুনেরবড়মা #কালীপুজো
Address
3721 2nd Street
Saltlake Sector V, Kolkata 700 091
Contacts
+91 98300 71925
Contract.subhendu.etv@gmail.com
