এসআইআরের কাজে চাপ সামলাতে না পেরে হাউ হাউ করে কাঁদছেন বিএলও, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া নেটিজনের


এক মাঝবয়েসী মহিলা হাপুসনয়নে কেঁদে চলেছেন। আসেপাশে বেশ কয়েকজন তাঁকে শান্তনা দিয়ে চলেছেন। কে এই মহিলা? কেনই বা এভাবে কাঁদছেন? জানা গিয়েছে, ইনি পাণ্ডুয়া ব্লকের এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা (SIR)–সংক্রান্ত কাজের ধারাবাহিক চাপ ও প্রযুক্তিগত জটিলতা তিনি সহ্য করতে পারছেন না। এই অভিযোগে শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। ফেসবুকে অনিমেষ হালদারের প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাতিক্যা বাইচি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ওয়েস্ট পাড়ার বাসিন্দা এবং বুথ নং E-41-এর বিএলও সুমিতা মুখোপাধ্যায় (ঘোষ), যিনি একজন স্কুল শিক্ষিকাও, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
প্রযুক্তিগত জটিলতা ও দীর্ঘ সময় কাজ করানোর অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটে যখন সুমিতা দেবীকে ব্লক অফিসে অনলাইন ডাটা এন্ট্রির জন্য ডাকা হয়। দাবি অনুযায়ী, তিনি ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০০ জনের নাম অনলাইনে আপডেট করেছিলেন। এরপর ব্লক অফিসে তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি জানান, “শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও আমি এসআইআর-এর কাজ করে যাচ্ছি… আমাকে ব্লকে ডেকে নিয়ে অনলাইন এন্ট্রি করতে বলা হয়। কিন্তু সার্ভারে সমস্যা ছিল। সকাল ১১:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত বসে থেকেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কাজ শেষ করতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “সবাইকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। খেতেও পারিনি। তখন শরীর খুব খারাপ লাগছিল, মনে হচ্ছিল জীবনটাই শেষ করে দিই। সঙ্গে থাকা এক বিএলও আমাকে বাড়ি পৌঁছে না দিলে বড় কিছু ঘটে যেত।” তিনি দাবি করেন, “নির্বাচন কমিশনের কোনও সঠিক পরিকল্পনা নেই। সিদ্ধান্ত বারবার বদলানো হচ্ছে। মাঠে কাজ করা বিএলওদের সমস্যাগুলো কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
পরিবার ও শিক্ষক কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
সুমিতা দেবীর স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, “সেদিন ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। স্তব্ধ হয়ে কান্না করছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে হাসপাতালে নিতে হতে পারত”। তিনি আরও বলেন, “পোর্টালের সার্ভার ডাউন ছিল, কিন্তু দোষ চাপানো হচ্ছে আমার স্ত্রীর ওপর। ওর ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে… লক্ষ্য পূরণ করেও তাকে হয়রানি করা হচ্ছে”।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বিএলও ডিউটি রেজিস্ট্যান্স ফোরামের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার অভিযোগ করেন, “রাজ্যের সর্বত্রই বিএলওদের ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ৩০০টি ডাটা এন্ট্রি করার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। অসুস্থতা ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এত কম সময়ে, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়া পরিকল্পনাহীনভাবে এই কাজ করানো হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না”। তিনি জানান, এই ঘটনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।
ব্লক প্রশাসনের নীরবতা, এসডিও-র প্রতিক্রিয়া ভিন্ন
পাণ্ডুয়া ব্লক প্রশাসন এই প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের একজন সূত্র (এসডিও হিসেবে পরিচিত) ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, “প্রাথমিকভাবে বিষয়টি শুনেছি। যারা পিছিয়ে আছেন বা অ্যাপ ব্যবহারে সাহায্যের প্রয়োজন, তাদের ব্লকে ডাকা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেননি এটি ঠিক নয়। ব্লকে তাঁকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।”
নেটিজনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই ভিডিওটি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে নেটিজনের মধ্যে। কেউ কেউ বিএলও-র প্রতি সমবেদনাা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে এতবড় একটা পদক্ষেপের জন্য কমিশনের আরো বেশি প্রস্তুতি দরকার ছিল। সেটা না হওয়াতে এই সমস্যা হয়েছে। অনেকের মতে বিএলওদেরই আরো বেশি কর্মঠ হওয়া উচিত। কাজ করতে না পারাটা তাঁদেরই দুর্বলতা।
Address
3721 2nd Street
Saltlake Sector V, Kolkata 700 091
Contacts
+91 98300 71925
Contract.subhendu.etv@gmail.com
