চীন–ভারত মহাসাগরীয় উত্তেজনা: এক নতুন অধ্যায়


গত কয়েক মাসে, People’s Liberation Army Navy (চীনা নৌবাহিনী) ভারতের পার্শ্ববর্তী মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের নৌ সক্ষমতা কার্যকরভাবে বাড়িয়েছে। Fujian নামের একটি নতুন — এবং সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধজাহাজ (carrier) চালু করায়, চীন এখন একই সঙ্গে প্রাক-প্যাসিফিক ও ভারত মহাসাগরীয় জলরেখায় তার প্রভাব বিস্তারের উপযোগী অবস্থানে এসেছে। একই সঙ্গে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বেশ কয়েকটি “গুপ্তচর / গবেষণা” জাহাজ — যেমন Shi Yan-6, Shen Hai Yi Hao এবং Lan Hai — ভারত মহাসাগর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নজরদারির কাজে নিয়োজিত দেখা গেছে। যদিও এই জাহাজগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “গবেষণা” বা “ভূ-সামুদ্রিক জরিপ” বলা হচ্ছে, তাদের সরঞ্জামের প্রকৃতি (উদাহরণস্বরূপ seabed mapping, সাবমেরিন রুট বিশ্লেষণ, টেলিমেট্রি ইত্যাদি) দেখে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন — এগুলো প্রতিরক্ষা- বা গোয়েন্দা উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হতে পারে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, Indian Navy (ভারতীয় নৌবাহিনী) সতর্ক অবস্থানে এসেছে। নৌবাহিনী এ খবর দিয়েছে, তারা এখন “ইন্ডিয়ান ওশেন রিজিয়ন (IOR)”–তে ভারতের পার্শ্ববর্তী সব চীনা জাহাজের গতিবিধি খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কেন উদ্বেগ?
চীন-নৌ সক্ষমতার দ্রুত সম্প্রসারণ: Fujian-র মত উন্নত যুদ্ধজাহাজ চালু করায়, চীন এখন শুধু নিজ স্বল্পসীমান্ত রক্ষা নয় — বরং দূরবর্তী সমুদ্র পথ, মালাক্কা স্ট্রেট, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর বিশ্লেষণে সক্ষম। গোপন অনুসন্ধান ও নজরদারির জাহাজ: “গবেষণা” বলে পাঠানো হলেও, seabed mapping, সাবমেরিন রুট বিশ্লেষণ, উপকূলীয় নাভিক্যাল ডেটা সংগ্রহ — এসবই প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত কাজ। এর ফলে ভারতের সমুদ্র সুরক্ষা ও যৌথ সীমান্ত-নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা: চীনের এই চালিয়ে নৌ শক্তি সম্প্রসারণ এবং ভারতের সরজমিনে নজরদারি পদক্ষেপ — দু’পার্টির মধ্যে নৌ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াবে।
ভারতের করণীয় ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
Indian Navy ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তারা সব চীনা নৌযান (গুপ্তচর, গবেষণা বা যুদ্ধজাহাজ) নতুন করে নজরদারিতে রাখবে। সঙ্গতভাবে, ভারত তার নৌ সক্ষমতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাও উন্নত করার দিকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে — যাতে অভ্যন্তরীণ জল-সীমা এবং বিশেষত EEZ (Exclusive Economic Zone) রক্ষা করা যায়। পাশাপাশি, সমুদ্র পথে বাণিজ্য ও সড়ন নিরাপত্তা বজায় রাখতে, আন্তর্জাতিক ন্যাভাল সহায়তা এবং সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারি বাড়ানো হতে পারে — যাতে সমুদ্র পথগুলো “মুক্ত এবং নিরাপদ” থাকে।
সামগ্রিক ব্যাবহারিক গুরুত্ব
এই ঘটনা কেবল দুই দেশের মধ্যকার সামরিক প্রতিযোগিতা নয় — বরং ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক পথ, উপকূলীয় পরিবেশ এবং আঞ্চলিক প্রভাব সবকিছুর জন্য প্রভাব ফেলবে। এমন অবস্থায়, সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে নৌ নিরাপত্তা, কূটনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য — সব বিভাগেই সচেতনতা জরুরি।
Address
3721 2nd Street
Saltlake Sector V, Kolkata 700 091
Contacts
+91 98300 71925
Contract.subhendu.etv@gmail.com
