পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ঐক্যের ডাক দিয়ে বিতর্কে মিঠুন চক্রবর্তী


প্রবীণ অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী হুগলি জেলায় এক জনসভায় ধারাবাহিক উসকানিমূলক মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলমান অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হিন্দু ভোটারদের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ঐক্যের আহ্বান
বৃহস্পতিবার চন্দননগরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিনেতা-রাজনীতিক রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে রাজ্যের পরিচয় রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এমনকি তৃণমূলের হিন্দু সমর্থকদেরও দলীয় পরিচয় ভুলে একজোট হওয়ার আবেদন জানান।
মিঠুন চক্রবর্তী বলেন
“আমি আমার ভাই-বোনদের কাছে আবেদন করছি। কমিউনিস্ট ও কংগ্রেসে থাকা হিন্দুদের অনুরোধ করছি—একজোট হোন। তৃণমূলের হিন্দুদেরও বলছি—চলুন, আমরা একসঙ্গে হই এবং এই সরকারকে সরাতে ভোট দিই, যাতে বাংলা বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতির শিকার না হয়।”
এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার খবর নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় দিপু দাস নামে এক যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
“দুর্ভাগ্যজনক ও বিভাজনমূলক” - মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, তিনি রাজ্যের ভোটারদের সাম্প্রদায়িকভাবে বিভাজিত করার চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের মুখপাত্র তৌসিফুর রহমান বলেন, “মিঠুন চক্রবর্তীর মতো একজন ব্যক্তির মুখে এ ধরনের বক্তব্য শোনা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি এমন একটি বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যা আদৌ নেই।”
আঞ্চলিক পরিচয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “যদি তিনি বাংলায় কথা বলাকেই ‘বাংলাদেশি’ হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে তাঁর নিজের শিকড় নিয়েও ভেবে দেখা উচিত।” তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষও একই সুরে আক্রমণ করেন। তিনি মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজনৈতিক ‘পরিযায়ী’ বলে কটাক্ষ করেন, যিনি নিজের স্বার্থে এক দল থেকে আরেক দলে গিয়েছেন।
কুণাল ঘোষ বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি বিজেপিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে ছবি করলেও, তিনি শুধু রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতেই তাঁর মঞ্চ ব্যবহার করেন, তাও অশালীন ভাষায়।”
বিতর্কের প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ঘরোয়া রাজনীতিতে লাভ তোলার চেষ্টা করছেন মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে ‘তুষ্টিকরণ রাজনীতি’-র অভিযোগ তুলে আসছে, আর ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে সেই বক্তব্যই আরও জোরালোভাবে সামনে আনছেন তিনি। এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্রমশ গভীর হয়ে ওঠা বিভাজনকেই তুলে ধরছে, যেখানে জাতীয় পরিচয় ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন বারবার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে
Address
3721 2nd Street
Saltlake Sector V, Kolkata 700 091
Contacts
+91 98300 71925
Contract.subhendu.etv@gmail.com
