এসআইআর খসড়া ভোটার তালিকায় সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ সেলিমের পদবি নাকি বদলে ‘অবস্থি’


পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগের পর এবার সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, খসড়া তালিকায় মহম্মদ সেলিম ও তাঁর ছেলে আজিজ আজিজ—দু’জনেরই পদবি বদলে উত্তর ভারতীয় ব্রাহ্মণদের সঙ্গে যুক্ত ‘অবস্থি’ লেখা হয়েছে।
এই অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসে কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার আজিজ আজিজ সোশ্যাল মিডিয়ায় খসড়া তালিকার স্ক্রিনশট শেয়ার করার পর। এর জেরে রাজনৈতিক মহল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়।
“ব্রাহ্মণে রূপান্তরিত”: ভুল নিয়ে কটাক্ষ সেলিম-পুত্রের
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথাকথিত করণিক ভুল তুলে ধরে আজিজ আজিজ তীব্র ব্যঙ্গ করেন। তিনি বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাকি নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে—এমন রাজনৈতিক কথাবার্তার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন তাঁকে ও তাঁর বাবাকে কার্যত “ব্রাহ্মণে রূপান্তরিত” করে ফেলেছে।
শেয়ার করা স্ক্রিনশট অনুযায়ী, তাঁর নাম লেখা হয়েছে “আজিজ আজিজ অবস্থি” এবং বাবার নাম “মহম্মদ সেলিম অবস্থি”। এই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো বিশাল তথ্য-এন্ট্রি প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের দাবি নাকচ
ক্রমবর্ধমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ERO) কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চায়। রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। কমিশনের বক্তব্য, মহম্মদ সেলিমের পদবি পরিবর্তনের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং তাদের নথিতে এমন কোনও সংশোধন করা হয়নি।
তবে কমিশন জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ার উপর তারা নিয়মিত নজর রাখছে। ভবিষ্যতে যদি কোনও প্রকৃত করণিক ভুল ধরা পড়ে, তবে আসন্ন দাবি ও আপত্তি পর্বে তা সংশোধন করা হবে।
এসআইআর নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
এই ঘটনা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক প্রশাসনিক ত্রুটির আরও একটি উদাহরণ। ঠিক তার আগের দিনই তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগে, যখন দানকুনি পুরসভার এক বর্তমান কাউন্সিলরকে খসড়া তালিকায় “মৃত” দেখানো হয়। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী গোটা প্রক্রিয়াকে “প্রহসন” বলে কটাক্ষ করেন।
বারবার জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানো এবং প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের “নাম বদলে যাওয়ার” অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছে।
এরপর কী?
এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন ২৩ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু করতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলি নির্দিষ্ট ত্রুটি চিহ্নিত করায়, এই শুনানি পর্ব ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যেন দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বের নাম সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
Address
3721 2nd Street
Saltlake Sector V, Kolkata 700 091
Contacts
+91 98300 71925
Contract.subhendu.etv@gmail.com
