কলকাতা ৪৯তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি বই স্টলের জায়গা না পাওয়াকে ঘিরে বিতর্ক
কলকাতা ৪৯তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি বই স্টলের জায়গা না পাওয়াকে ঘিরে বিতর্ক
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশ


কলকাতা ৪৯তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি বই স্টলের জায়গা না পাওয়াকে ঘিরে বিতর্ক
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক বইমেলার ৪৯তম আসরকে কেন্দ্র করে এবার শুরু থেকেই বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। এ বছর বইমেলায় বাংলাদেশি বইয়ের জন্য কোনও আলাদা স্টল বা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকাশক মহল ও সাহিত্যপ্রেমীদের একাংশ। বইমেলা কমিটির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
প্রতি বছরই কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশ থেকে প্রকাশক ও লেখকদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকে। দুই বাংলার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হিসেবে এই মেলাকে দেখা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা তাদের নতুন বই, গবেষণামূলক গ্রন্থ ও জনপ্রিয় সাহিত্য নিয়ে এই মেলায় অংশ নেন। ফলে এবছর হঠাৎ করে বাংলাদেশি বই স্টলের জায়গা না পাওয়া অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত বলে মনে হচ্ছে।
বইমেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জায়গার সীমাবদ্ধতা, স্টল পুনর্বিন্যাস এবং প্রশাসনিক কিছু কারণের জন্য এবছর বাংলাদেশি বইয়ের আলাদা স্টল রাখা সম্ভব হয়নি। কমিটির দাবি, এটি কোনও দেশ বা প্রকাশকের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নয়, বরং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত দুই বাংলার সাহিত্যিক বন্ধনকে আঘাত করতে পারে।
এদিকে বইমেলার উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বইমেলার ঐতিহ্য, পাঠাভ্যাস রক্ষা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রসারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি চিন্তা, মনন ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখার উপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।
তবে উদ্বোধনের আনন্দের মধ্যেও বাংলাদেশি বই স্টল প্রসঙ্গ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের একাংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বইমেলার চরিত্র বজায় রাখতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলির অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, অনেক পাঠকই আশা প্রকাশ করেছেন যে চলতি মেলার মধ্যেই বা আগামী বছর এই সমস্যার সমাধান হবে। দুই বাংলার সাহিত্যিক আদান–প্রদান বন্ধ হলে পাঠক সমাজই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মত তাঁদের।
সব মিলিয়ে, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৪৯তম আসর একদিকে যেমন সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই বাংলাদেশি বই স্টল না থাকার বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, বইমেলা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দুই বাংলার সাহিত্যিক বন্ধন কতটা অটুট থাকে।
