জনমুখী ঘোষণা, ভাতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনের আগে বড় বার্তা — ৪ লক্ষ কোটির ঘরে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী বাজেট
জনমুখী ঘোষণা, ভাতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনের আগে বড় বার্তা — ৪ লক্ষ কোটির ঘরে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী বাজেট
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


জনমুখী ঘোষণা, ভাতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনের আগে বড় বার্তা — ৪ লক্ষ কোটির ঘরে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী বাজেট
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়ল, DA বৃদ্ধি, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষায় জোর—বিরোধীদের অভিযোগ ‘ভোটমুখী বাজেট’
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় ৪.০৬ লক্ষ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করে একাধিক জনমুখী ঘোষণা করেছে। বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করে জানান, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, নারীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি। উপভোক্তাদের জন্য মাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বহু মহিলার আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এছাড়াও রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ মহার্ঘভাতা (DA) বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
কৃষিক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিহীন কৃষিশ্রমিকদের বছরে ৪ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিহ্নিত করতে আলাদা ডেটাবেস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে হুগলির সিঙ্গুরে নতুন অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরাসরি গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপকৃত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুবকদের জন্য ভাতা ও কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পের কথাও বাজেটে উঠে এসেছে। যোগ্য বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতা চালু বা বৃদ্ধি করার ঘোষণাও করা হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বাজেট মূলত নির্বাচনের আগে জনসমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যেই তৈরি। রাজ্যের ঋণের বোঝা ও রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অন্যদিকে সরকারের দাবি, সামাজিক সুরক্ষা ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এই ব্যয় অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে এবারের বাজেট স্পষ্টভাবে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, নগদ সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। নির্বাচনের মুখে এই বাজেট রাজ্যের অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
