রাতেই জানতেন ঠিকাদাররা, পুলিশ খবর পায় সকালে—দিল্লির গর্তে যুবকের মৃত্যুতে অব্যবস্থার নগ্ন চিত্র, উঠছে তীব্র প্রশ্ন

রাতেই জানতেন ঠিকাদাররা, পুলিশ খবর পায় সকালে—দিল্লির গর্তে যুবকের মৃত্যুতে অব্যবস্থার নগ্ন চিত্র, উঠছে তীব্র প্রশ্ন

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশ

2/8/20261 min read

রাতেই জানতেন ঠিকাদাররা, পুলিশ খবর পায় সকালে—দিল্লির গর্তে যুবকের মৃত্যুতে অব্যবস্থার নগ্ন চিত্র, উঠছে তীব্র প্রশ্ন

দিল্লিতে রাস্তার গর্তে পড়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং শহুরে প্রশাসন, ঠিকাদারি ব্যবস্থা এবং নাগরিক পরিকাঠামোর বাস্তব চিত্রকে সামনে এনে দিল নির্মমভাবে। তদন্তে উঠে এসেছে, রাস্তার বিপজ্জনক গর্তের কথা রাতেই জানতেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। কিন্তু অভিযোগ, কোনও সতর্কবার্তা, ব্যারিকেড বা আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি। পুলিশ খবর পায় পরদিন সকালে—ততক্ষণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে।

এই ঘটনাই আবার প্রশ্ন তুলছে, বড় শহরগুলিতে রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক কীভাবে হয়? কাজের বরাত দেওয়া হয়, বিল মেটানো হয়, কিন্তু নজরদারি কোথায়? ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো কতটা কার্যকর, তা নিয়েই উঠছে জোরালো প্রশ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার ওই অংশ দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক ছিল। বৃষ্টি বা নিকাশির সমস্যায় গর্ত আরও বড় হয়ে যায়। বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও কাজের গতি ছিল শ্লথ। দুর্ঘটনার পর রাতারাতি সক্রিয়তা বাড়লেও, সমালোচকদের বক্তব্য—“দুর্ঘটনার আগে ব্যবস্থা নিলে আজ একটি প্রাণ বাঁচত।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নাগরিক পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে ধারাবাহিক গাফিলতি এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্পের প্রচার যতটা জোর দিয়ে করা হয়, রাস্তা, নিকাশি বা আলো—এই মৌলিক বিষয়গুলিতে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলেই অভিযোগ। ফলে প্রতি বছর একই ছবি সামনে আসে—গর্ত, জল জমা, দুর্ঘটনা, তারপর তদন্তের আশ্বাস।

পুলিশ ইতিমধ্যেই এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এই ধরনের ঘটনার তদন্ত প্রায়ই দীর্ঘসূত্রিতার ফাঁদে পড়ে যায়। দায় নির্ধারণ ও শাস্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে জনমনে ক্ষোভ ধীরে ধীরে চাপা পড়ে, আর বাস্তবিক পরিবর্তন খুব কমই চোখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত অডিট, জরুরি মেরামতির বাধ্যতামূলক সময়সীমা এবং দায়বদ্ধতার কঠোর বিধি না থাকলে এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। শুধু নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নয়, বাস্তবে কঠোর প্রয়োগ দরকার।

একটি গর্তে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু তাই নিছক দুর্ঘটনা নয়—এটি অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা এবং নজরদারির ঘাটতির ফল। প্রশ্ন একটাই, এই মৃত্যুর পর কি সত্যিই ব্যবস্থা বদলাবে, নাকি কয়েকদিনের শোরগোল থেমে গেলে আবার সব আগের মতোই চলবে?