দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বরফ গলল আরও একটু? কানাডায় অজিত ডোভালের বৈঠক, বার্তা কি খালিস্তানপন্থীদেরও
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত–কানাডা সম্পর্কে কি বরফ গলতে শুরু করেছে? এই প্রশ্নই জোরালো হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কানাডা সফর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েই নয়, নিরাপত্তা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থা এবং আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গত কয়েক বছরে খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এবং তা ঘিরে ভারতের উদ্বেগ বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ডোভালের এই সফরকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের একটি পরোক্ষ বার্তা রয়েছে—ভারত স্পষ্ট করে জানাতে চাইছে যে, তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও আপসের জায়গা নেই। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে দিল্লির অবস্থান যে আগের মতোই কঠোর, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কানাডার পক্ষ থেকেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক অতীতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজনৈতিক টানাপোড়েন সেই সম্পর্ককে ধাক্কা দিলেও, বাস্তব প্রয়োজনে দুই দেশই যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চাইছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, একটি বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং স্পষ্ট পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে উগ্রপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে সম্পর্কের বরফ পুরোপুরি গলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ডোভালের এই সফর তাই কেবল একটি কূটনৈতিক ঘটনা নয়; এটি শক্ত বার্তা এবং কৌশলগত ইঙ্গিত—দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা যেমন চলছে, তেমনই নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানও যে কঠোর, তা আবারও স্পষ্ট করা হল।