পাকিস্তানকে ছাপিয়েও স্বস্তি নয়—চীনের ছায়ায় ভারতের সামরিক শক্তি, নতুন তালিকা যে কঠিন সত্য দেখাল

পাকিস্তানকে ছাপিয়েও স্বস্তি নয়—চীনের ছায়ায় ভারতের সামরিক শক্তি, নতুন তালিকা যে কঠিন সত্য দেখাল

ট্রেন্ডিংরাজনীতিবিদেশদেশ

2/10/20261 min read

পাকিস্তানকে ছাপিয়েও স্বস্তি নয়—চীনের ছায়ায় ভারতের সামরিক শক্তি, নতুন তালিকা যে কঠিন সত্য দেখাল

বিশ্বের সামরিক শক্তির নতুন সূচক আবারও এক বাস্তবতা সামনে এনে দিল—দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পুরনো সমীকরণ ভেঙে যাচ্ছে। পাকিস্তান ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে, কিন্তু তাতে ভারতের সামনে বিপদ কমছে না। কারণ প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—চীন।

বহু বছর ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে পাকিস্তানই ছিল প্রধান আলোচনার বিষয়। সীমান্ত সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদ, কূটনৈতিক উত্তেজনা—সবকিছুর কেন্দ্রেই ছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু বাস্তবতা হল, সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান এখন ভারতের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রতিরক্ষা খাতে সীমাবদ্ধতা তাদের সামরিক আধুনিকীকরণকে কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বক্তৃতায় পাকিস্তানের নাম যতই জোরে উচ্চারিত হোক, বাস্তব কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মানচিত্রে তার গুরুত্ব আগের মতো নেই।

আর ঠিক এখানেই সামনে আসে চীনের প্রসঙ্গ।
চীন শুধু একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত রাষ্ট্রযন্ত্র তৈরি করেছে—যেখানে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং সামরিক শক্তি একই সুতোয় গাঁথা। সীমান্তে রাস্তা, বিমানঘাঁটি, নজরদারি ব্যবস্থা—সবকিছু দ্রুত গতিতে গড়ে তুলছে বেইজিং। ভারত যেখানে প্রতিটি প্রকল্পে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে, সেখানে চীন পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে অনেক দ্রুত।

এই বাস্তবতা অস্বীকার করে শুধুমাত্র র‌্যাঙ্কিংয়ের সাফল্যে আত্মতুষ্টি বিপজ্জনক হতে পারে। চতুর্থ স্থানে থাকা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়, কিন্তু প্রশ্ন হল—এই অবস্থান ধরে রাখতে এবং এগিয়ে যেতে কী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে? প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—এসব ক্ষেত্রে গতি বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাজনৈতিক বার্তা। সামরিক শক্তির প্রশ্নে প্রায়ই বিষয়টি দেশপ্রেমের আবেগে ঢেকে যায়, কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। শক্তি মানে শুধু সেনার সংখ্যা নয়; শক্তি মানে অর্থনীতি, গবেষণা, প্রযুক্তি, শিল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লে যুদ্ধ না হলেও প্রভাব হারাতে হয়—আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাস তার প্রমাণ।

নতুন তালিকা তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, একটি সতর্কবার্তা। পাকিস্তানকে ছাপিয়ে যাওয়া শেষ লক্ষ্য নয়; আসল লড়াই অনেক বড় এবং অনেক দীর্ঘ।

ভারতের সামনে প্রশ্ন একটাই—আমরা কি এখনও অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আটকে থাকব, নাকি ভবিষ্যতের বাস্তব চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে কৌশল বদলাব?

এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দশকের শক্তির মানচিত্র নির্ধারণ করবে।