‘ভাবাবেগে আঘাত’ বিতর্কে এফআইআর—সিনেমা, রাজনীতি না পরিচয় রাজনীতির নতুন মঞ্চ?

‘ভাবাবেগে আঘাত’ বিতর্কে এফআইআর—সিনেমা, রাজনীতি না পরিচয় রাজনীতির নতুন মঞ্চ?

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিদেশ

2/8/20261 min read

‘ভাবাবেগে আঘাত’ বিতর্কে এফআইআর—সিনেমা, রাজনীতি না পরিচয় রাজনীতির নতুন মঞ্চ?

একটি ছবির নাম ঘিরে বিতর্ক, অভিযোগ ব্রাহ্মণদের ভাবাবেগে আঘাত, আর তার জেরেই উত্তরপ্রদেশে এফআইআর। অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—দেশে কি শিল্পের স্বাধীনতা ক্রমশ রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে সংকুচিত হচ্ছে, নাকি পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিই এখন জনমত গঠনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে?

অভিযোগ উঠেছে, ছবির নাম ও বিষয়বস্তুর মধ্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অপমান করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে “ভাবাবেগে আঘাত” শব্দবন্ধটি যেন ক্রমশ একটি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কোনও বক্তব্য, চলচ্চিত্র বা সাহিত্য—যা কারও কাছে আপত্তিকর মনে হলেই আইনি পদক্ষেপের দাবি উঠছে, আর প্রশাসনও দ্রুত সক্রিয় হচ্ছে।

মনোজ বাজপেয়ী অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, ছবিটি কোনও সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তৈরি নয় এবং একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি কেবল চরিত্রের প্রয়োজনে কাজ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—শিল্পী বা নির্মাতার উদ্দেশ্য নয়, বরং জনমতের চাপই কি এখন শেষ কথা নির্ধারণ করছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি ছবির বিতর্ক নয়; এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতা। পরিচয়, ধর্ম, জাত—এই বিষয়গুলি এখন রাজনীতির কেন্দ্রে। ফলে যে কোনও সাংস্কৃতিক বা সৃজনশীল কাজ খুব দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে।

আরও বড় প্রশ্ন হল, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানদণ্ড কি সর্বত্র সমান? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু বিতর্কিত মন্তব্য বা বিষয়বস্তু নিয়ে অভিযোগ ওঠে, কিন্তু সব ক্ষেত্রেই কি একই গতিতে এফআইআর হয়? এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে জনমনে।

এই ঘটনা আবারও দেখাল, আজকের ভারতে সিনেমা শুধু বিনোদন নয়; এটি সমাজ, রাজনীতি ও পরিচয়ের সংঘর্ষের এক নতুন ক্ষেত্র। আর সেই সংঘর্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শিল্পী, দর্শক ও প্রশাসন—তিন পক্ষই যেন এক অনিশ্চিত ভারসাম্যের মধ্যে হাঁটছে।