দূষণ ও জলবায়ু বিপর্যয় রুখতে বড় পদক্ষেপ: কলকাতা পুরসভা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আসছে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’
দূষণ ও জলবায়ু বিপর্যয় রুখতে বড় পদক্ষেপ: কলকাতা পুরসভা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আসছে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


দূষণ ও জলবায়ু বিপর্যয় রুখতে বড় পদক্ষেপ: কলকাতা পুরসভা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আসছে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং বায়ুদূষণের কবলে তিলোত্তমা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার হাত মেলালো কলকাতা পুরসভা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)। শহরের পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে এবং বিশেষ করে শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রুখতে তৈরি হয়েছে ‘কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ (K-CAP)। ২০২৫ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হলেও, ২০২৬ সালের শুরুতে এর বাস্তবায়ন ও শিশু-কেন্দ্রিক কৌশল নির্ধারণে নতুন গতি এসেছে।
শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ জোর
ইউনিসেফ এবং পুরসভার সাম্প্রতিক সেমিনারে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সমীক্ষা বলছে, কলকাতার প্রতি দু’জন শিশুর মধ্যে একজন কোনো না কোনো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। বায়ুদূষণ ও ধুলোবালির সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের ফুসফুসে।
সংকট: শহরে প্রায় ৩.৪ লক্ষ শিশু দূষণজনিত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি: গত ছয় দশকে কলকাতার গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মশাবাহিত রোগ: পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে এখন শীতকালেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বছরভর নজরদারির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার মূল দিকগুলি
কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান বা K-CAP-এর মাধ্যমে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে:
হিট অ্যাকশন প্ল্যান: তীব্র দাবদাহের সময় শহরবাসীকে, বিশেষ করে বস্তি এলাকার মানুষদের সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা।
বৃক্ষরোপণ ও ট্রি অ্যাম্বুল্যান্স: শহরের সবুজায়ন বাড়াতে এবং পুরনো গাছগুলিকে বাঁচাতে ‘ট্রি অ্যাম্বুল্যান্স’-এর পরিষেবা চালু হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: দূষণ কমাতে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ।
পরিবহন: বায়ুদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনে উৎসাহ দান।
পুরসভা ও ইউনিসেফের বক্তব্য
কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, "কলকাতা জলবায়ু পরিবর্তনের নিরিখে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি শহর। ঘূর্ণিঝড় এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ থেকে শহরকে বাঁচাতে এই রূপরেখা অত্যন্ত জরুরি।" অন্যদিকে, ইউনিসেফের পশ্চিমবঙ্গ প্রধান ডঃ মনজুর হোসেন শিশুদের জন্য একটি 'জলবায়ু সহনশীল' (Climate Resilient) শহর গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
