মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের আগে ‘কৃষ্ণনাথ’, বিধানসভায় বিল—নামকরণ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের ইঙ্গিত
মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের আগে ‘কৃষ্ণনাথ’, বিধানসভায় বিল—নামকরণ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের ইঙ্গিত
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের আগে ‘কৃষ্ণনাথ’, বিধানসভায় বিল—নামকরণ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের ইঙ্গিত
ঐতিহ্যের যুক্তি দিচ্ছে সরকার, বিরোধীদের প্রশ্ন—শিক্ষা না কি প্রতীকের রাজনীতি?
মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের আগে ‘কৃষ্ণনাথ’ যুক্ত করতে বিধানসভায় বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, আসন্ন অধিবেশনেই এই বিল পেশ হতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে আলোচনা শুরু হয়েছে জোরদারভাবে।
সরকারের যুক্তি, মুর্শিদাবাদের ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণনাথের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নামে রাখা হয়েছে—এই উদাহরণও তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে বিরোধী শিবিরের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নাম পরিবর্তনের প্রবণতা কি ক্রমশ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠছে? তাদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বদলে নাম পরিবর্তনই যদি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, তবে তা শিক্ষানীতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, মুর্শিদাবাদ বাংলার নবাবি আমল, জমিদারি শাসন এবং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই ইতিহাসের বিভিন্ন চরিত্র ও পর্বকে সামনে এনে নামকরণের সিদ্ধান্ত নিলে তা অবশ্যই ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি দিক হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে তা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রও তৈরি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নামকরণ বা পুনর্নামকরণ প্রায়শই প্রতীকের রাজনীতির অংশ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ভোটের আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাড়তি তাৎপর্য পায়। ফলে এই বিল বিধানসভায় উঠলে তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন নজর বিধানসভায়—বিল পাস হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের আগে ‘কৃষ্ণনাথ’ যুক্ত হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত করবে, সেটাই দেখার।
