একলা চলো নীতিতে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস: ২৯৪ আসনেই কি প্রার্থী পাবে দল?
একলা চলো নীতিতে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস: ২৯৪ আসনেই কি প্রার্থী পাবে দল?
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


একলা চলো নীতিতে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস: ২৯৪ আসনেই কি প্রার্থী পাবে দল?
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে কোনো জোট নয়, বরং 'একলা চলো' নীতি গ্রহণ করতে চলেছে কংগ্রেস। হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেবে শতাব্দীপ্রাচীন এই দল। কিন্তু এই ঘোষণা যতটাই বৈপ্লবিক, বাস্তবের মাটিতে তার প্রয়োগ ততটাই চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বুথ স্তরের দুর্বলতা কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
সাম্প্রতিক এসআইআর-এ কংগ্রেসের সাংগঠনিক কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকট হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৫ হাজারের কাছাকাছি বুথ রয়েছে। অথচ তথ্য বলছে, সেখানে মাত্র ১৮ হাজারের কিছু বেশি বুথে 'বিএলএ-২' (BLA2) দিতে সক্ষম হয়েছিল কংগ্রেস। অর্থাৎ, রাজ্যের সিংহভাগ বুথেই দলের কোনো সক্রিয় প্রতিনিধি নেই। যেখানে বুথ সামলানোর লোক নেই, সেখানে ২৯৪টি আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
প্রার্থী সঙ্কটে কি 'অন্য দল' ভরসা?
কংগ্রেসের অন্দরে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কোথায় পাওয়া যাবে ২৯৪ জন যোগ্য প্রার্থী? মালদা বা মুর্শিদাবাদের মতো গুটিকয়েক জেলা বাদ দিলে রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই কংগ্রেসের পরিচিত মুখ কার্যত নেই। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা:
তৃণমূল বা বিজেপি থেকে টিকিট না পাওয়া 'বিক্ষুব্ধ' নেতাদের দিকে নজর রাখতে পারে কংগ্রেস।
অন্য দল থেকে ছিটকে আসা নেতাদের হাতেই শেষ পর্যন্ত 'হাত' চিহ্নের টিকিট উঠতে পারে।
দলের পুরনো ও নিষ্ক্রিয় কর্মীদের পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বামেদের সঙ্গে জোট না করলে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে সুবিধা হতে পারে শাসকদলের। আবার বিএলএ-২ নিয়োগের এই বিশাল ঘাটতি থাকলে ভোটের দিন বুথ পাহারা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী থাকলেও এজেন্ট না থাকায় লড়াইয়ের ময়দান ফাঁকা পড়ে থাকার সম্ভাবনা থাকে।
তবে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, মানুষের মধ্যে কংগ্রেসকে নিয়ে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হচ্ছে। একলা লড়লে দলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ফিরে আসবে এবং সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি হবে।
উপসংহার:
২৯৪ আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত কি কেবলই রাজনৈতিক দর কষাকষি, নাকি সত্যিই ঘুরে দাঁড়ানোর নীল নকশা? উত্তর মিলবে নির্বাচনের প্রাক্কালে। তবে আপাতত কংগ্রেস শিবিরের নজর 'অন্য দল' থেকে আসা সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিকেই
