ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ–জল–শৌচাগার আছে কি না, রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ–জল–শৌচাগার আছে কি না, রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

1/31/20261 min read

ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ–জল–শৌচাগার আছে কি না, রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

রাজ্যের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো আদৌ রয়েছে কি না— তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভোটকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে বিস্তারিত ও হলফনামা-সহ রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।

শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুধুমাত্র ব্যালট বা ইভিএমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের জন্য ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা নির্বাচন পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদালতের মন্তব্য, বহু ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রগুলিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানীয় জলের অভাব এবং শৌচাগারের অপ্রতুলতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সামনে আসছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে নারী, প্রবীণ এবং শারীরিকভাবে সক্ষমতাহীন ভোটারদের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগকে কঠিন করে তুলছে।

এই প্রেক্ষিতে আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে— রাজ্যের মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কত শতাংশ বুথে স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, কতগুলিতে নিয়মিত পানীয় জলের ব্যবস্থা কার্যকর, এবং শৌচাগার আদৌ ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আদালতে জমা দিতে হবে। শুধু সংখ্যাগত তথ্য নয়, পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য নেওয়া পদক্ষেপের বাস্তব অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আরও জানতে চেয়েছে, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি ও অন্যান্য সরকারি ভবনের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কী ধরনের সমন্বয় করা হয়েছে। কোথায় অস্থায়ী শৌচাগার বসানো হয়েছে, কোথায় পানীয় জল ট্যাঙ্কার বা ফিল্টার বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে— সেই তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, ভোটকেন্দ্রের পরিকাঠামোর ঘাটতি প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে এবং তা সরাসরি গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। এই বিষয়ে অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে।

আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের জবাবের দিকেই এখন নজর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের।

subhendu chatterjee,howrah