সুপ্রিম কোর্টের সতর্কতা: ধর্ম, বর্ণ ও ভাষা

সুপ্রিম কোর্ট ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে সম্প্রদায়কে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের সতর্ক করেছে। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানতে পড়ুন আমাদের বিস্তারিত প্রতিবেদনে।

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26দেশ

2/26/20261 min read

সাংবিধানিক পদে বসে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ নয়! ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নিয়ে উস্কানিতে লক্ষ্মণরেখা টানল সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি: দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তিদের জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, উচ্চপদে বসে ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য বা ঘৃণা ভাষণ (Hate Speech) দেওয়া যাবে না। সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছে আদালত।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ:

এদিন একটি মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যাঁরা সাংবিধানিক শপথ নিয়ে পদে বসেন, তাঁদের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তাঁদের প্রতিটি শব্দ সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে:

  • ধর্মীয় উস্কানি: কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত লাগে এমন মন্তব্য করা যাবে না।

  • ভাষাগত বৈষম্য: ভাষা বা আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে কাউকে ছোট করা বা আক্রমণ করা যাবে না।

  • বর্ণবাদ: বর্ণ বা জাতির ভিত্তিতে কোনও বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানো যাবে না।

লক্ষ্মণরেখা টানল শীর্ষ আদালত:

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাক-স্বাধীনতা (Freedom of Speech) মানেই যা খুশি তাই বলা নয়। বিশেষ করে যখন কেউ রাজ্যপাল, মন্ত্রী বা অন্য কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। আদালত সতর্ক করে বলেছে, "সাংবিধানিক রক্ষাকবচ মানে ঘৃণ্য মন্তব্যের লাইসেন্স নয়।"

রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য:

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মন্তব্যে সাম্প্রদায়িক বা ভাষাগত উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ উঠছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তার পর সেই সব নেতাদের ওপর আইনি চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও পদমর্যাদাই ঢাল হতে পারবে না।