চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও, মমতার সওয়ালেই সায় সুপ্রিম কোর্টের! এআই টুল ব্যবহার নিয়ে কমিশনকে তিরস্কার
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও, মমতার সওয়ালেই সায় সুপ্রিম কোর্টের! এআই টুল ব্যবহার নিয়ে কমিশনকে তিরস্কার
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও, মমতার সওয়ালেই সায় সুপ্রিম কোর্টের! এআই টুল ব্যবহার নিয়ে কমিশনকে তিরস্কার
নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাম অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-এর হাতেই থাকবে। একই সঙ্গে, এই প্রক্রিয়ায় এআই বা স্বয়ংক্রিয় টুলের ব্যবহার নিয়ে কমিশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে আদালতে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল—ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানবিক যাচাই ছাড়া কেবল প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কতটা গ্রহণযোগ্য—সেই যুক্তিকেই গুরুত্ব দেয় আদালত। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও মানবিক যাচাই অপরিহার্য।
শুনানির সময় আদালত নির্বাচন কমিশনকে কার্যত ভর্ৎসনা করে জানায়, এআই টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা জরুরি। কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের।
রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা দাবি করেন, বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই নাম বাদ পড়ছে বা আপত্তি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। আদালত এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করে এবং ভবিষ্যতে এমন প্রক্রিয়ায় মানবিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।
রাজনৈতিক মহলেও এই পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, আদালতের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন অমূলক নয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে এবং প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার দিকেই জোর দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার সীমায় আটকে থাকছে না; বরং ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তার দিকনির্দেশও স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
