হাই কোর্টের নির্দেশকে প্রকাশ্যে অমান্য, সাবেবরাতে শব্দবাজি—প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কড়া ভর্ৎসনা
হাই কোর্টের নির্দেশকে প্রকাশ্যে অমান্য, সাবেবরাতে শব্দবাজি—প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কড়া ভর্ৎসনা
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ


হাই কোর্টের নির্দেশকে প্রকাশ্যে অমান্য, সাবেবরাতে শব্দবাজি—প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কড়া ভর্ৎসনা
হাই কোর্টের স্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশ অগ্রাহ্য করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সাবেবরাত উপলক্ষে শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগে করা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করে, হাই কোর্টের নির্দেশকে কার্যত ‘বুড়ো আঙুল’ দেখানো হয়েছে, যা আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা।
শুনানির সময় বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাই কোর্টের নির্দেশ মানা প্রশাসনের উপর বাধ্যতামূলক। কোনও উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করার অধিকার কারও নেই। প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, আদালতের নির্দেশ যদি কার্যকর না হয়, তবে তা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং আদালত অবমাননার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
মামলায় অভিযোগ, সাবেবরাত উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও শব্দমাত্রা বেঁধে দিয়ে হাই কোর্ট নির্দেশ জারি করেছিল। তা সত্ত্বেও রাজ্যের একাধিক এলাকায় সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নের মুখে এবং প্রশাসনের তরফে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছে, হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কে ছিলেন এবং কেন নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি।
বেঞ্চ আরও জানায়, বিচারব্যবস্থার আদেশ অমান্য করে যদি প্রশাসন নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে, তবে তা সাংবিধানিক কাঠামোর উপর আঘাত। আদালতের নির্দেশ মানা কোনও অনুগ্রহ নয়, বরং সংবিধানসিদ্ধ বাধ্যবাধকতা। এই প্রেক্ষিতে দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের ব্যাখ্যা তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতে হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের ঘটনা ঘটলে আদালত কোনও রকম সহনশীলতা দেখাবে না। আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রয়োজনে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ প্রশাসনের প্রতি একেবারে শেষ সতর্কবার্তা—আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করলে তার আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতি অনিবার্য।
subhendu chatterjee
