হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকে ‘ভাল বার্তা যায়নি’, সেলিমকে স্পষ্ট বার্তা সিপিআই(এম) নেতৃত্বের

হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকে ‘ভাল বার্তা যায়নি’, সেলিমকে স্পষ্ট বার্তা সিপিআই(এম) নেতৃত্বের

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/7/20261 min read

হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকে ‘ভাল বার্তা যায়নি’, সেলিমকে স্পষ্ট বার্তা সিপিআই(এম) নেতৃত্বের

যুব নেতাদের বেপরোয়া মন্তব্যে অস্বস্তি, লাগাম টানতে সক্রিয় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব

দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা—এই দুই প্রশ্নকে সামনে রেখেই সিপিআই(এম) নেতৃত্বের অন্দরে শুরু হয়েছে কড়া তৎপরতা। দলীয় সূত্রে খবর, হুমায়ুনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক এবং তা ঘিরে প্রকাশ্যে আসা মন্তব্যে “ভাল বার্তা যায়নি” বলেই মত দলের একাংশের শীর্ষ নেতৃত্বের। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেও স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

দলীয় অন্দরের খবর, বৈঠকের পর কিছু যুব নেতার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নেতৃত্বের একাংশের মতে, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা আবেগতাড়িত মন্তব্য জনমানসে ভুল বার্তা দেয় এবং দলের সংগঠিত অবস্থানকে দুর্বল করে। সেই কারণেই যুব সংগঠনের একাধিক নেতাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিপিআই(এম) নেতৃত্বের বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী রাজনীতির পরিসরে দলকে শক্তিশালী করতে গেলে বার্তায় সংযম এবং রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য। সেই কারণেই সাম্প্রতিক ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সিপিআই(এম) নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনতে চাইছে। তবে সেই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব চাইছে যাতে বক্তব্য ও কৌশলে দলের মূল রাজনৈতিক লাইন থেকে কোনও বিচ্যুতি না ঘটে। যুব নেতৃত্বের কিছু মন্তব্য সেই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, দলের একাংশের দাবি, ভেতরের আলোচনা ও মতবিনিময়কে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা উচিত। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিভিন্ন মত উঠে আসতেই পারে, তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত—এই বার্তাই নেতৃত্ব স্পষ্ট করতে চাইছে।

এই ঘটনায় স্পষ্ট, সংগঠনকে সুসংহত রাখা এবং রাজনৈতিক বার্তা নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন সিপিআই(এম) নেতৃত্বের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে যুব সংগঠনের ভূমিকা ও বক্তব্য নিয়ে যে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে, তা দলীয় অন্দরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে দল অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আরও কড়া করতে চাইছে। ফলে আগামী দিনে নেতাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান দেখা যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।