সিপিআইএমে বড় ভাঙন! দল ছাড়লেন ‘তরুণ তুর্কী’ প্রতীকুর রহমান, চরম অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন
সিপিআইএমে বড় ভাঙন! দল ছাড়লেন ‘তরুণ তুর্কী’ প্রতীকুর রহমান, চরম অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


সিপিআইএমে বড় ভাঙন! দল ছাড়লেন ‘তরুণ তুর্কী’ প্রতীকুর রহমান, চরম অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক। সিপিআইএমের অন্দরে এবার আড়াআড়ি ভাঙন। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার দাপুটে যুব নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন লোকসভা প্রার্থী প্রতীকুর রহমান। বেশ কিছুদিন ধরেই দলের একাংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এবার সরাসরি ‘বিদ্রোহী’ তকমা নিয়ে সদস্যপদ ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত আলিমুদ্দিনের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কেন এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান?
সূত্রের খবর, দলের রণকৌশল এবং স্থানীয় স্তরের কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রতীকুর। সোশাল মিডিয়াতেও মাঝেমধ্যে তাঁর লেখনিতে ফুটে উঠত ‘বেলাইন’ হওয়ার ইঙ্গিত। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন:
দলের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের লড়াই করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রেই আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সমীকরণ প্রাধান্য পাচ্ছে।
সাংগঠনিক স্থবিরতা এবং রণকৌশলে বদল না আনার প্রতিবাদেই এই চরম পদক্ষেপ।
চরম অস্বস্তিতে সিপিআইএম নেতৃত্ব
প্রতীকুর রহমান কেবল একজন প্রার্থীই ছিলেন না, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মাঠে-ঘাটে সিপিআইএমের হয়ে বড় মুখ ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের মতো কঠিন আসনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে তিনি নজর কেড়েছিলেন। তাঁর মতো নেতার সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তৃণমূল না কি অন্য পথ?
প্রতীকুর রহমানের পদত্যাগের খবরের সাথেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে কি তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চলেছেন? নাকি আপাতত নির্দলীয় বা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবেন? যদিও প্রতীকুর নিজে এই নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানাননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মতো বাগ্মী নেতার জন্য অন্য দলের দরজা খোলাই থাকবে।
আলিমুদ্দিনের প্রতিক্রিয়া কী?
দলের জেলা কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতীকুরের সিদ্ধান্তের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না বা দলের পক্ষ থেকে কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি জেলা সম্পাদক। তবে ভোটের আগে এক তরুণ মুখ হারিয়ে সিপিআইএম যে যথেষ্ট ব্যাকফুটে, তা বলাই বাহুল্য।
