'মমতাই তো আসল দেনাদার!' ২ লক্ষ কোটির অভিযোগে ভূপেন্দ্রর পাল্টা তোপ

'মমতাই তো আসল দেনাদার!' ২ লক্ষ কোটির অভিযোগে ভূপেন্দ্রর পাল্টা তোপ

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26

2/13/20261 min read

'মমতাই তো আসল দেনাদার!' ২ লক্ষ কোটির অভিযোগে ভূপেন্দ্রর পাল্টা তোপ

রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। বুধবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।

কী বললেন ভূপেন্দ্র যাদব?

কেন্দ্রীয় বাজেটের ব্যাখ্যা দিতে এসে ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, "যিনি কেন্দ্রের কাছে বকেয়ার হিসাব চাইছেন, তিনিই বছরের পর বছর নিজের সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা আটকে রেখেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা লড়েন।"

ডিএ মামলা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ:

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজ্যকে দ্রুত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। এই রায়কে হাতিয়ার করে ভূপেন্দ্রর দাবি:

  • হতাশায় মৃত্যু: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে 'সার' (SIR) প্রক্রিয়ার চাপে কর্মীদের মৃত্যু হচ্ছে। ভূপেন্দ্রর পাল্টা অভিযোগ, "SIR-এর জন্য নয়, ডিএ না পাওয়ার হতাশায় কর্মীরা মারা যাচ্ছেন।"

  • প্রশাসনিক ব্যর্থতা: মন্ত্রীর মতে, সারা দেশে সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়ে গেলেও বাংলায় কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়ছেন, যা বড় মাপের প্রশাসনিক ব্যর্থতা।

  • আদালতের লড়াই: তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী SIR ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারলেও কেন নিজের কর্মীদের বকেয়া মেটাতে পারছেন না?

তৃণমূলের পাল্টা জবাব:

অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' ও 'অসভ্য' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, গুজরাট বা রাজস্থানের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যেও বিএলও-দের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও কি ডিএ না পাওয়াই কারণ? তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার টাকা আটকে রাখছে বলেই রাজ্য সমস্যায় পড়ছে।

এক নজরে মূল সংঘাত:

বিষয়মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিভূপেন্দ্র যাদবের পাল্টা দাবিকেন্দ্রীয় বকেয়াকেন্দ্র বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে।কেন্দ্র টাকা দিলেও তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব (UC) রাজ্য দেয় না।ডিএ (DA)মামলাটি বিচারাধীন এবং রাজ্যের আর্থিক সংকটের কথা মাথায় রাখা উচিত।সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এটি আর বিচারাধীন নয়; এটি কর্মীদের আইনি অধিকার।কর্মীদের মৃত্যুঅতিরিক্ত কাজের চাপে (SIR) ৪০ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।ডিএ না পাওয়ার হতাশাই কর্মীদের মৃত্যুর আসল কারণ।

পরবর্তী পদক্ষেপ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। নবান্ন এই টাকা কীভাবে জোগাড় করে, এখন সেটাই দেখার।