পার্ক স্ট্রিট থেকে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলারসহ ৩ যুবককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে থাই ভাট-ও। ধৃতদের মধ্যে ২ জন মুম্বইয়ের বাসিন্দা। পড়ুন বিস্তারিত।

পার্ক স্ট্রিট থেকে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলারসহ ৩ যুবককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে থাই ভাট-ও। ধৃতদের মধ্যে ২ জন মুম্বইয়ের বাসিন্দা। পড়ুন বিস্তারিত।

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26

2/26/20261 min read

পার্ক স্ট্রিটে ‘যকের ধন’! লক্ষ লক্ষ বিদেশি মুদ্রাসহ গ্রেফতার ৩ যুবক, নেপথ্যে কি বড় কোনো চক্র?

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শহর কলকাতায় আবারও উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। তবে এবার ভারতীয় টাকা নয়, উদ্ধার হয়েছে লক্ষ লক্ষ বিদেশি মুদ্রা। মঙ্গলবার রাতে পার্ক স্ট্রিট এলাকা থেকে তিন যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা) এবং তিন লক্ষ থাই ভাট। এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা কোথা থেকে এল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে ঘনিয়ে উঠেছে রহস্য।

গোপন অভিযানে সাফল্য:

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে পার্ক স্ট্রিট চত্বরে ওই তিন যুবকের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। তাঁদের আটক করে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। ব্যাগের ভেতর থেকে বান্ডিল বান্ডিল মার্কিন ডলার এবং থাই মুদ্রা উদ্ধার হয়। ধৃতদের নাম সায়ন দাস, আসাদ মহম্মদ পাঞ্জাবি এবং ফিরোজ খান। ধৃত সায়ন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেও বাকি দু’জন মুম্বইয়ের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা:

জেরায় ধৃত যুবকরা দাবি করেছেন যে, তাঁরা কর্মসূত্রে এই টাকা মুম্বই নিয়ে যাচ্ছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের (Currency Exchange) জন্যই এই অর্থ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে তাঁদের দাবি। তবে এত পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা বহনের সপক্ষে কোনও বৈধ নথিপত্র বা লাইসেন্স তাঁরা দেখাতে পারেননি। কেন তাঁরা ব্যাঙ্কে বা বৈধ পথে এই লেনদেন করেননি, সেই প্রশ্নেরও কোনও সদুত্তর মেলেনি।

নির্বাচনের আগে বাড়তি সতর্কতা:

সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শহরের অভিজাত এলাকা থেকে এই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে লালবাজার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান:

  • এর পেছনে কোনও আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারী চক্র থাকতে পারে।

  • নির্বাচনের আগে হাওলা (Hawala) পথে টাকা পাচারের চেষ্টা চলছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • ধৃতদের সঙ্গে মুম্বইয়ের কোনও বড় সিন্ডিকেটের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

তদন্তে পুলিশ:

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কথা আয়কর দপ্তর এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ED) জানানো হয়েছে। পার্ক স্ট্রিটের মতো জনবহুল এলাকায় এই লেনদেন করার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর প্রকৃত গন্তব্য কোথায়, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ।