ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ! ২৬ ফেব্রুয়ারি বড় আন্দোলনের ডাক, চরম হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের
ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ! ২৬ ফেব্রুয়ারি বড় আন্দোলনের ডাক, চরম হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ! ২৬ ফেব্রুয়ারি বড় আন্দোলনের ডাক, চরম হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) ইস্যুতে এবার নবান্নের ওপর চাপ আরও বাড়াল রাজ্য সরকারি কর্মীরা। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ পাওয়া সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। এই আবহে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। তাঁদের স্পষ্ট কথা— ‘হয় বকেয়া ডিএ মেটান, নয়তো বৃহত্তর ধর্মঘট’।
আদালতের কড়া অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে:
প্রথম কিস্তি: ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ আগামী ৬ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।
অধিকার: আদালত সাফ জানিয়েছে, ডিএ কোনো দয়া বা দান নয়, এটি কর্মীদের সাংবিধানিক অধিকার।
কমিটি গঠন: বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া কীভাবে মেটানো হবে, তা ঠিক করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে শীর্ষ আদালত।
কেন ২৬ ফেব্রুয়ারির ‘আল্টিমেটাম’?
বাজেটে মাত্র ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ফারাক এখনো আকাশচুম্বী। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি হাতে নিয়ে আগামী ২৬ তারিখ একগুচ্ছ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে:
কর্মবিরতির হুমকি: যদি সরকার দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেয়, তবে ২৬ তারিখ থেকে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন দফতরে কর্মবিরতি শুরু হতে পারে।
নবান্ন অভিযান: সংগঠনগুলির তরফে ওই দিন বিশাল জমায়েত এবং প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না মিললে আদালত অবমাননার মামলা করার প্রস্তুতিও শুরু করেছে কর্মী সংগঠনগুলো।
সরকারের অস্বস্তি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই রাজ্যের আর্থিক অনটনের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায় রাজ্য বিপাকে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি নাকচ করে দেওয়ায় এবং কর্মীদের ২৬ তারিখের আল্টিমেটাম আসায় মুখ্যমন্ত্রী এখন ত্রিমুখী চাপে। একদিকে ভোটের রাজনীতি, অন্যদিকে কোষাগারের টান, আর তার মাঝখানে কর্মীদের এই চরম হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে ডিএ ইস্যু এখন নবান্নের গলার কাঁটা।
