"কবে পাবো ডিএ?" সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নাজেহাল নেতারা, ফোনে অতিষ্ঠ সংগঠনের অন্দর

"কবে পাবো ডিএ?" সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নাজেহাল নেতারা, ফোনে অতিষ্ঠ সংগঠনের অন্দর

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26

2/13/20261 min read

"কবে পাবো ডিএ?" সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নাজেহাল নেতারা, ফোনে অতিষ্ঠ সংগঠনের অন্দর

সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমা এগিয়ে আসতেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। আর সেই উত্তেজনার আঁচ এসে পড়ছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের ওপর। সকাল থেকে রাত— ফোনের ওপার থেকে একটাই প্রশ্ন ভেসে আসছে, "কবে পাবো বকেয়া ডিএ? সরকার কি আদৌ টাকা দেবে?"

ঘটনা কী? সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজ্য সরকারকে দ্রুত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) জট কাটাতে হবে। আদালতের কড়া অবস্থানের পর কর্মচারীদের মধ্যে আশায় বুক বেঁধেছেন অনেকেই। বিশেষ করে ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার একটি বড় অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তৎপরতা তুঙ্গে।

নাজেহাল নেতারা: গত কয়েকদিন ধরে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ থেকে শুরু করে তৃণমূল বা বাম সমর্থিত সবকটি কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের অবস্থা তথৈবচ। নেতাদের বক্তব্য:

  • লাগাতার ফোন: "ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার— ফোনের বিরতি নেই। শুধু কলকাতা নয়, জেলা থেকেও হাজার হাজার কর্মী ফোন করছেন।"

  • হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শোরগোল: সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতেও একটাই আলোচনা। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা জানতে মরিয়া সকলে।

  • বিব্রত হওয়ার কারণ: রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত টাকা মেটানো নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি (Notification) জারি না করায়, নেতারাও কর্মীদের নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। আর তাতেই দানা বাঁধছে ক্ষোভ।

নেতাদের বক্তব্য: সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক নেতার কথায়, "আমরা কর্মীদের আবেগ বুঝি। কিন্তু সরকার যতক্ষণ না নথিপত্র বের করছে, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করি? আমরা শুধু বলতে পারি যে আইনি লড়াই আমরা জিতছি, টাকা আমাদের পেতেই হবে।" অন্যদিকে তৃণমূল প্রভাবিত কর্মচারী ফেডারেশনের এক নেতা জানান, "মুখ্যমন্ত্রী কর্মীদের কথা ভাবছেন, বাজেটে হয়তো বড় ঘোষণা আসবে। আমরা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে বলছি।"

আদালতের অবস্থান: উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে দিয়েছে যে ডিএ কোনো দয়া নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। রাজ্য সরকার আর্থিক সংকটের যুক্তি দিলেও আদালত তা মেনে নেয়নি। আগামী শুনানির আগেই রাজ্যকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

মূল পয়েন্টগুলো যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে:

  • মোট বকেয়া: এখনো কেন্দ্রের সমান হারে ডিএ থেকে রাজ্য প্রায় ৩৬ শতাংশ পিছিয়ে।

  • পর্যাপ্ত তহবিল: নবান্ন ২ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়ার যে দাবি তুলেছে, তা না পেলে ডিএ দেওয়ার ফান্ড কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সরকার কি বাজেট অধিবেশনে বড় কোনো কিস্তি ঘোষণা করবে? এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী।