বকেয়া ডিএ মামলা: আদালত অবমাননার দায়ে বিদ্ধ মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব
বকেয়া ডিএ মামলা: আদালত অবমাননার দায়ে বিদ্ধ মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


বকেয়া ডিএ মামলা: আদালত অবমাননার দায়ে বিদ্ধ মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব
📌 মূল খবর:
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ল। আদালতের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ডিএ মেটানোর নির্দেশ কার্যকর না করায় রাজ্যের শীর্ষ দুই আমলা— মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে আদালত অবমাননার (Contempt of Court) নোটিশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
⚖️ আদালতের পর্যবেক্ষণ:
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এর আগে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ পালন না করে বারবার সময় চেয়েছিল অথবা আইনি জটিলতার দোহাই দিয়েছিল।
আদালতের প্রশ্ন: কেন বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না?
কড়া অবস্থান: আদালত জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থার নির্দেশকে গুরুত্ব না দেওয়া বা কার্যকর করতে দেরি করা 'আদালত অবমাননার' শামিল। তাই এই দুই উচ্চপদস্থ কর্তাকে কারণ দর্শানোর (Show Cause) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔍 প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি:
১. বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় রাজ্য সরকারি কর্মীরা এখনও অনেকটাই কম ডিএ পাচ্ছেন। রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, এই ফারাক মেটানো আইনি অধিকার। ২. সরকারের যুক্তি: রাজ্য সরকার বারবারই আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, বিপুল পরিমাণ বকেয়া মেটাতে গেলে রাজ্যের কোষাগারে টান পড়বে। ৩. আন্দোলন: ডিএ-র দাবিতে যৌথমঞ্চের আন্দোলন কয়েক বছর ধরে চলছে। আদালতের এই নোটিশকে আন্দোলনরত কর্মীরা তাঁদের 'নৈতিক জয়' হিসেবে দেখছেন।
⏳ পরবর্তী পদক্ষেপ:
মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নোটিশের জবাব দিতে হবে।
যদি সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায় বা নির্দেশ পালন না হয়, তবে আদালত তাঁদের সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে অথবা আরও কঠোর দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই আইনি লড়াই এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নবান্ন এই নোটিশের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে নাকি বকেয়া মেটানোর কোনো বিকল্প পথ খুঁজছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
