তারেকের শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লা! বাংলাদেশের মঞ্চ থেকে কি দেশের বিরোধী পক্ষকেই কড়া বার্তা দিল ভারত?
তারেকের শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লা! বাংলাদেশের মঞ্চ থেকে কি দেশের বিরোধী পক্ষকেই কড়া বার্তা দিল ভারত?
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিঢাকাবিদেশভোট 26দেশ


তারেকের শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লা! বাংলাদেশের মঞ্চ থেকে কি দেশের বিরোধী পক্ষকেই কড়া বার্তা দিল ভারত?
নিজস্ব প্রতিবেদন, ঢাকা ও দিল্লি: প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এক চাঞ্চল্যকর কূটনৈতিক মোড়। জল্পনা ছড়িয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী শাসক হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তবে কি এই উপস্থিতির আড়ালে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনো গভীর সমীকরণ লুকিয়ে আছে? রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সামনে রেখে আসলে দেশের বিরোধী পক্ষকেই এক বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি।
কূটনৈতিক শিষ্টাচার না কি রাজনৈতিক কৌশল?
সাধারণত প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের শপথে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানো ভারতের দস্তুর। কিন্তু ওম বিড়লার মতো ব্যক্তিত্বকে পাঠানো হলে তার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন:
গণতন্ত্রের বার্তা: স্পিকার হিসেবে ওম বিড়লা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে ভারত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানায়।
বিরোধী পক্ষকে নিশানায়: ভারতে যখন বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, তখন প্রতিবেশী দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর কৃতিত্ব নিয়ে বিজেপি সরকার দেশের ভেতরে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাইছে।
প্রতিবেশী নীতিতে বদল?
শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে ভারত যে খুব মেপে পা ফেলছে, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ। তারেক রহমানের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করে ভারত একদিকে যেমন সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে দেশের ভেতরে বিরোধী জোটকে দেখাতে চায় যে—বিদেশের মাটিতেও ভারত এখন অনেক বেশি প্রভাবশালী।
বার্তার লক্ষ্য যখন ঘরোয়া রাজনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, ওম বিড়লাকে পাঠানোর অর্থ হলো—ভারত সরকার দেখাতে চায় যে তারা শুধু শাসকদলের সাথেই নয়, বরং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যেকোনো শক্তির সাথেই সুসম্পর্ক রাখতে সক্ষম। এটি ভারতের সেই সব বিরোধী নেতাদের জন্য একটি পরোক্ষ জবাব, যারা দাবি করেছিলেন যে বাংলাদেশের পটপরিবর্তনে ভারত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
আগামী দিনের সমীকরণ
যদি সত্যিই ওম বিড়লা এই শপথে অংশ নেন, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নতুন রূপ পাবে, তেমনই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নরেন্দ্র মোদী সরকারের কূটনৈতিক জয়জয়কার ঘোষিত হবে।
