শান্তিপুরে নৃশংতা! খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সারমেয় হত্যার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা যাচ্ছে কলকাতায়
শান্তিপুরে নৃশংতা! খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সারমেয় হত্যার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা যাচ্ছে কলকাতায়
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


শান্তিপুরে নৃশংতা! খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সারমেয় হত্যার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা যাচ্ছে কলকাতায়
নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: শান্তিপুর থানার অন্তর্গত সুত্রাগড় এলাকায় একের পর এক পথকুকুরের আকস্মিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্তত ৪ থেকে ৫টি কুকুরকে খাবারের সঙ্গে তীব্র বিষ মিশিয়ে খাইয়ে মারা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পশুপ্রেমীরা।
ঠিক কী ঘটেছে?
বুধবার সকালে সুত্রাগড় সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি কুকুরকে ছটফট করতে দেখেন স্থানীয়রা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মুখ দিয়ে লালা ও ফেনা বেরিয়ে মৃত্যু হয় চারটির। বাসিন্দাদের দাবি, তারা দেখেছেন এক দম্পতি কিছু খাবারের টুকরো রাস্তায় ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন, যা খাওয়ার পরেই কুকুরগুলির এই দশা হয়।
জনরোষ: স্থানীয় বাসিন্দারা ওই দম্পতিকে আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি: পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ইঁদুর মারার বিষ বা কোনও কড়া রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নিশ্চিত হতে মৃত কুকুরগুলির দেহের ভিসেরা (Viscera) ও অন্যান্য নমুনা সংরহ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতায় প্রেরণ
শান্তিপুর পৌরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে মৃত সারমেয়গুলির দেহের নমুনা এবং সংগৃহীত খাদ্যবস্তু কলকাতার বেলগাছিয়া প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পরিষ্কার হবে ঠিক কোন বিষক্রিয়ায় এই মৃত্যু।
"অবোধ প্রাণীগুলোকে যারা এভাবে বিষ দিয়ে মেরেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছি।" — স্থানীয় এক পশুপ্রেমী কর্মী
আইনের চোখে অপরাধ
ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন (Prevention of Cruelty to Animals Act, 1960) অনুযায়ী, কোনও প্রাণীকে বিষ খাইয়ে বা নির্যাতন করে মারা দণ্ডনীয় অপরাধ। দোষী সাব্যস্ত হলে জেল এবং জরিমানা— উভয়ই হতে পারে।
শান্তিপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
