আরজি কর হাসপাতালে ৬ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিশ, সন্দীপের ৫২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত—বিবৃতি ইডির

আরজি কর হাসপাতালে ৬ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিশ, সন্দীপের ৫২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত—বিবৃতি ইডির

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/8/20261 min read

আরজি কর হাসপাতালে ৬ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিশ, সন্দীপের ৫২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত—বিবৃতি ইডির

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ঘিরে দুর্নীতির তদন্তে বড় তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের হদিশ মিলেছে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দীপ নামে এক অভিযুক্তের প্রায় ৫২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথাও জানানো হয়েছে ইডির তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে।

ইডি সূত্রে খবর, আর্থিক লেনদেন, ভুয়ো বিল এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখেই এই অনিয়মের সূত্র মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি অর্থের একটি অংশ বেআইনি পথে অন্য খাতে সরানো হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নথি এবং সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া যায়।

সংস্থার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কয়েকটি সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। শাসকদলের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে দেওয়া উচিত এবং আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য সামনে আসবে।

স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, বড় সরকারি হাসপাতালে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। ফলে এই ধরনের অভিযোগ সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, আরজি কর হাসপাতাল সংক্রান্ত এই তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। ইডির দাবি কতটা প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।