সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির মধ্য হাওড়ায়: জেমা মসজিদে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে পালন করলেন খুশির ঈদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির মধ্য হাওড়ায়: জেমা মসজিদে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে পালন করলেন খুশির ঈদ

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

3/23/20261 min read

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির মধ্য হাওড়ায়: জেমা মসজিদে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে পালন করলেন খুশির ঈদ

এক মাসের কঠোর ত্যাগ, নিষ্ঠা আর সংযমের শেষে উদযাপিত হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবথেকে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই খুশির ঈদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন চাক্ষুষ করল হাওড়াবাসী। বিশেষত মধ্য হাওড়ার শিবপুর মোল্লাপাড়া জেমা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফুটে উঠল একতার এক উজ্জ্বল ছবি।

উপবাস শেষে খুশির ঈদ

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্জলা উপবাস রেখে এক মাস ধরে রোজা পালন করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘ এক মাসের কৃচ্ছ্রসাধনের পর আসে সেই বহুপ্রতীক্ষিত খুশির ঈদ। এদিন সকাল থেকেই হাওড়ার বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঢল নামে ধর্মপ্রাণ মানুষের। আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষ একসাথে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পাঠে অংশ নেন।

একইসাথে নামাজে হিন্দু-মুসলিম ভাইয়েরা

উত্তর হাওড়ার কারবালা বড়ো মসজিদ সংলগ্ন জিটি রোডের মতো মধ্য হাওড়ার শিবপুর মোল্লাপাড়া জেমা মসজিদেও এদিন ঈদের নামাজের বিশেষ আয়োজন করা হয়। তবে এই মসজিদের চিত্রটি ছিল একটু ভিন্ন ও বিশেষ। এখানে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই নন, সম্প্রীতির টানে নামাজ পাঠের আসরে শামিল হন হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রতিবেশীরাও।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই মসজিদে ভিড় জমান স্থানীয়রা। সেখ হানিফ, সেখ বুবু, কচি মোল্লা, মহম্মদ আজহার, সেখ রাজকুমার ও মহিউদ্দিন মোল্লাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজে উপস্থিত ছিলেন সুশোভন চ্যাটার্জি (বুবুল)কৌশিক গুপ্তরা

ভ্রাতৃত্বের কোলাকুলি ও মিষ্টি মুখ

নামাজ শেষ হতেই শুরু হয় চিরচেনা সেই ভ্রাতৃত্বের দৃশ্য। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় বা কোলাকুলি করেন। উপস্থিত সুশোভন বাবু ও কৌশিক বাবুদের মতে, উৎসবের কোনো কাঁটাতার হয় না; সম্প্রীতির এই ঐতিহ্যই হাওড়ার আসল সংস্কৃতি। নামাজ শেষে মিষ্টি মুখ ও আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে দিনটি উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে।

"ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই বার্তাকেই আরও একবার সার্থক করে তুলল মোল্লাপাড়া জেমা মসজিদ।"

নারায়ণ রতন দত্ত/হাওড়া।