নন্দীগ্রামে এক সপ্তাহে দু’বার তৃণমূলের জয়,
নন্দীগ্রামে এক সপ্তাহে দু’বার তৃণমূলের জয়,
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


নন্দীগ্রামে এক সপ্তাহে দু’বার তৃণমূলের জয়, সমবায় নির্বাচনে সাফল্যের মাঝেই অভিষেককে ঘিরে বিজেপির আক্রমণ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নন্দীগ্রাম কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। এক সপ্তাহের মধ্যেই দু’বার সমবায় নির্বাচনে জয় পেল তৃণমূল। স্থানীয় সমবায় ব্যাঙ্ক ও কৃষি-ভিত্তিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে বিরোধীদের পিছনে ফেলে স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ের দাবি করেছে শাসক দল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সংগঠনিক পুনর্গঠনের ফলই এই সাফল্য।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সমবায় নির্বাচনে পরপর জয় প্রমাণ করে দিয়েছে যে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও তৃণমূলের দিকেই রয়েছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা ও গ্রামস্তরের সংগঠন মজবুত করার ফলেই এই ফলাফল এসেছে। তাঁদের মতে, বিজেপির প্রভাব ক্রমশ কমছে।
তবে এই সাফল্যের মধ্যেই তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে তুলেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, স্বাস্থ্য শিবির ও পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। নন্দীগ্রামে দলীয় কর্মসূচির সময় বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলে আক্রমণ শানায়। তাদের দাবি, “স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে জনসংযোগ রাজনীতি চলছে।”
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব আরও দাবি করেছে, সমবায় নির্বাচনেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে তৃণমূল। শাসক দলের বক্তব্য, নির্বাচন হয়েছে নিয়ম মেনেই এবং মানুষের রায়ই তাদের জয়ের কারণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনের ফলাফল ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। তৃণমূল সংগঠনের শক্তি বাড়াতে এই জয় কার্যকর হলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিজেপির আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হবে।
সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামে এক সপ্তাহে দু’বার সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের জয় যেমন শাসক দলের মনোবল বাড়িয়েছে, তেমনই বিজেপির পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
