"একটা আসনে হারলে ওরা আপনাদের মাছ খাওয়া বন্ধ করবে!" পাঁশকুড়ার সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার
"একটা আসনে হারলে ওরা আপনাদের মাছ খাওয়া বন্ধ করবে!" পাঁশকুড়ার সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


"একটা আসনে হারলে ওরা আপনাদের মাছ খাওয়া বন্ধ করবে!" পাঁশকুড়ার সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার
নিজস্ব প্রতিবেদন, পাঁশকুড়া: ভোট যত এগোচ্ছে, ততই আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় এক নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে এক হাত নিলেন তিনি। এবার তাঁর আক্রমণের হাতিয়ার বাঙালির চিরপ্রিয় ‘মাছ-ভাত’। বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ এবং ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী’ তকমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, "একটা আসনে আমরা হারলে সেই সুযোগে বিজেপি আপনাদের মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে।"
বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
এদিন পাঁশকুড়ার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন:
"ওরা (বিজেপি) ঠিক করে দেবে আপনি কী খাবেন আর কী পরবেন। ওরা মাছ খায় না, তাই আপনাদেরও মাছ খাওয়া বন্ধ করতে চায়। মনে রাখবেন, ওরা ক্ষমতায় এলে আপনাদের রসুইঘরেও ঢুকে পড়বে।"
"মাকড়সার মতো জাল বুনেছে বিজেপি"
বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, "দিল্লি থেকে বড় বড় নেতারা এসে বড় বড় কথা বলছেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না বাংলার সংস্কৃতি কী। আমরা মাছ খাই, আমরা সব ধর্মের উৎসব পালন করি। ওরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, আর আমরা উন্নয়ন নিয়ে। আপনারা যদি নিজের অধিকার এবং সংস্কৃতি বাঁচাতে চান, তবে জোড়া ফুলেই ভোট দিন।"
পাল্টা আসরে গেরুয়া শিবির
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল আসলে হারের ভয়ে মানুষের মধ্যে ভিত্তিহীন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বিজেপি নেতাদের দাবি:
সংস্কৃতি রক্ষা: বিজেপি বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাসে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
ভয় দেখানোর রাজনীতি: মানুষের নজর আসল সমস্যা (দুর্নীতি, বেকারি) থেকে ঘোরাতেই মুখ্যমন্ত্রী মাছ-মাংসের প্রসঙ্গ তুলছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৬-এর এই নির্বাচনে মেদিনীপুরের মাটি ফিরে পাওয়া তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দাঁড়িয়ে মমতার এই ‘মাছ-ভাত’ কার্ড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাঙালির আবেগকে উস্কে দিয়ে মেরুকরণের বদলে ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ তত্ত্বে শান দিতেই এই রণকৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
