ভোট ঘোষণার আগেই পথে পুলিশের 'নাকা', গাড়ি ধরপাকড়ে নাজেহাল আমজনতা; তুঙ্গে আতঙ্ক
ভোট ঘোষণার আগেই পথে পুলিশের 'নাকা', গাড়ি ধরপাকড়ে নাজেহাল আমজনতা; তুঙ্গে আতঙ্ক
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


ভোট ঘোষণার আগেই পথে পুলিশের 'নাকা', গাড়ি ধরপাকড়ে নাজেহাল আমজনতা; তুঙ্গে আতঙ্ক
কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার অনেক আগেই শহর থেকে জেলা— সর্বত্র শুরু হয়ে গিয়েছে পুলিশের তৎপরতা। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং নির্বাচনী কাজের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়ি 'দখল' বা রিকুইজিশন করা শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই এই গাড়ি ধরপাকড় ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রাস্তায় বেরোলেই 'রিকুইজিশন'-এর ভয়
কলকাতার প্রবেশপথ থেকে শুরু করে জাতীয় সড়ক— সর্বত্রই বসানো হয়েছে পুলিশের নাকা চেকিং। গাড়ি চালকদের অভিযোগ:
জোরপূর্বক গাড়ি আটক: ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি (SUV) এবং কমার্শিয়াল গাড়িগুলিকে থামিয়ে নথিপত্র দেখার নাম করে চালকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে 'রিকুইজিশন স্লিপ'।
অফিস ও জরুরি কাজে বাধা: বহু মানুষ অফিস যাওয়ার পথে বা পরিবার নিয়ে বেরোনোর সময় মাঝরাস্তায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ছেন। গাড়ি নিয়ে একবার রাস্তায় বেরোলে তা সুস্থভাবে বাড়ি ফিরবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বাসের আকাল: পর্যটন বা বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বুক করা বাস ও মিনিবাসগুলিও পুলিশ তুলে নেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
কেন এই তৎপরতা?
পুলিশ সূত্রের খবর, ১ মার্চ থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৪৪০-এর বেশি কোম্পানি আসতে শুরু করছে। ১ মার্চের পর যে কোনও দিন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে।
বাহিনী পরিবহন: এই বিপুল পরিমাণ জওয়ানদের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচুর সংখ্যক গাড়ির প্রয়োজন।
এরিয়া ডমিনেশন: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এলাকায় টহলদারি বা 'এরিয়া ডমিনেশন'-এর জন্য আগাম গাড়ির মজুত নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।
কী বলছে আইন ও কমিশন?
সাধারণত নির্বাচন কমিশন সরকারি এবং বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। ব্যক্তিগত গাড়ি (Private Vehicle) নেওয়া হয় একেবারে 'শেষ অস্ত্র' হিসেবে।
ক্ষতিপূরণ: যে সব গাড়ি নেওয়া হচ্ছে, তার জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক ভাড়া এবং জ্বালানি খরচ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে সেই টাকা হাতে পেতে দীর্ঘ সময় লাগে বলে মালিকদের অভিযোগ।
আবেদন প্রক্রিয়া: কোনো গাড়ির মালিক যদি গুরুতর অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে গাড়িটি ছাড়াতে চান, তবে তাঁকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) বা জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে।
গাড়ি মালিকদের ক্ষোভ
হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগণার বেশ কিছু গাড়ি চালকের দাবি, "ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই কেন আমাদের গাড়ি ধরা হবে? আমরা সাধারণ মানুষ কাজ করে খাই, গাড়ি পুলিশ নিয়ে গেলে সংসার চলবে কীভাবে?" প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নও।
