কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত? হানা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের, রাজ্যে এসওপি জারির পরই তৎপরতা তুঙ্গে
কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত? হানা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের, রাজ্যে এসওপি জারির পরই তৎপরতা তুঙ্গে
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত? হানা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের, রাজ্যে এসওপি জারির পরই তৎপরতা তুঙ্গে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এলপিজি (LPG) সঙ্কটের আঁচ পড়েছে বাংলাতেও। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম অভাব তৈরি করে গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যে বিশেষ SOP (Standard Operating Procedure) জারি করা হয়েছে। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা থেকে শহর— সর্বত্র ডিলার ও গুদামগুলিতে অভিযানে নামল পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।
এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের সাঁড়াশি অভিযান
শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের গুদামে হানা দেন ইবি আধিকারিকরা। মূলত দেখা হচ্ছে:
ডিলারের কাছে বর্তমানে কত সিলিন্ডার মজুত আছে।
বুকিং অনুযায়ী সরবরাহের গতি ঠিক আছে কি না।
ঘরোয়া সিলিন্ডার অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।
গ্যাসের ডায়েরি বা স্টকের খাতায় কোনো গরমিল আছে কি না।
ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর-সহ বেশ কিছু এলাকায় বেআইনিভাবে গ্যাস মজুত করার অভিযোগে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে এবং বেশ কিছু সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নবান্নের নতুন নির্দেশিকা (SOP)
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাজ্য সরকার যে এসওপি জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে:
নজরদারি কমিটি: মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। জেলাস্তরে জেলাশাসকদের (DM) নেতৃত্বে কমিটি ডিস্ট্রিবিউটরদের স্টক নিয়মিত পরীক্ষা করবে।
কন্ট্রোল রুম: নবান্নে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যা প্রতিদিন রাজ্যে গ্যাসের জোগান ও মজুতের হিসাব রাখবে।
সিঙ্গেল সিলিন্ডার অগ্রাধিকার: যাদের বাড়িতে মাত্র একটি সিলিন্ডার আছে, তাদের গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালোবাজারিতে জেল: গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি বা বেশি দাম নিলে সরাসরি এফআইআর (FIR) ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনমানসে আতঙ্ক ও সরকারের আশ্বাস
গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ২৫ দিনের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও রাজ্য সরকার আশ্বস্ত করেছে যে ভয়ের কোনো কারণ নেই। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক জানান, "সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে মজুতদারি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।"
শহর থেকে গ্রাম— সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রার্থনা, দ্রুত স্বাভাবিক হোক রান্নার গ্যাসের জোগান।
