কাজের চাপে প্রতিযোগিতা দূরে, শহরের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দিন কাটে কলকাতা পুলিশের ঘোড়াদের

কাজের চাপে প্রতিযোগিতা দূরে, শহরের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দিন কাটে কলকাতা পুলিশের ঘোড়াদের

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গভোট 26

2/11/20261 min read

কাজের চাপে প্রতিযোগিতা দূরে, শহরের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দিন কাটে কলকাতা পুলিশের ঘোড়াদের

কলকাতা: ভোরের আলো ফোটার আগেই দিন শুরু হয় তাদের। নিয়মমতো খাবার, পরিচর্যা, তারপর প্রশিক্ষণ—এই নিয়মেই চলছে কলকাতা পুলিশের মাউন্টেড ব্রাঞ্চের ঘোড়াদের জীবন। একসময় বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই ঘোড়ারাই এখন ব্যস্ত শহরের নিরাপত্তার দায়িত্বে।

ময়দানের আস্তাবলে দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়াগুলিকে দেখলে বোঝা যায় না, কয়েক ঘণ্টা পরেই তারা নামবে শহরের রাস্তায়। বড় মিছিল, ধর্মীয় উৎসব, ক্রীড়া অনুষ্ঠান কিংবা ভিড় নিয়ন্ত্রণ—এই সব ক্ষেত্রেই এখনও ঘোড়সওয়ার পুলিশ কার্যকর। অনেক সময় এমন জায়গায় দ্রুত পৌঁছতে হয়, যেখানে গাড়ি ঢোকা কঠিন। তখনই সামনে আসে এই ঘোড়াগুলি।

মাউন্টেড ব্রাঞ্চের কর্মীদের কথায়, ঘোড়াদের সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু কাজের নয়, অনেকটা পরিবারের মতো। প্রতিটি ঘোড়ার স্বভাব আলাদা—কেউ শান্ত, কেউ চঞ্চল, কেউ আবার খুব দ্রুত নতুন নির্দেশ শিখে ফেলে। তাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা হয়।

এক সময় নিয়মিতভাবে ক্রীড়ামূলক প্রতিযোগিতা বা প্রদর্শনী হত, যেখানে এই ঘোড়াদের দক্ষতা দেখার সুযোগ পেত সাধারণ মানুষ। এখন কাজের চাপ বেড়েছে, শহরের দায়িত্ব বেড়েছে, তাই সেই প্রতিযোগিতা অনেকটাই কমে গেছে। তবু প্রশিক্ষণ থেমে নেই—কারণ মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকতেই হয়।

পশু চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান, নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা, বিশ্রামের সময়—সব কিছুই মেনে চলা হয় কঠোরভাবে। কারণ এই ঘোড়ারাই শহরের আইনশৃঙ্খলার এক নীরব সৈনিক।

প্রযুক্তির যুগে ড্রোন, সিসিটিভি, আধুনিক যানবাহন—সবই এসেছে। তবু কলকাতার রাস্তায় ঘোড়সওয়ার পুলিশের উপস্থিতি এখনও আলাদা করে চোখে পড়ে। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর দায়িত্ব—এই তিনের মিশ্রণেই প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয় কলকাতা পুলিশের ঘোড়াদের দিন।