রাজ্যপাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়

রাজ্যপাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশ

1/30/20261 min read

রাজ্যপাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়

প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান কার্যত স্বীকৃত

নিউজ ডেস্ক | নয়াদিল্লি:
রাজ্যপাল ও নির্বাচিত রাজ্য সরকারের ক্ষমতা বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যপাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যপাল কোনও অবস্থাতেই “সমান্তরাল প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ” হিসেবে কাজ করতে পারেন না। সংবিধানের সীমারেখার মধ্যেই রাজ্যপালের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকবে—এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কার্যত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে সমর্থন করল আদালত।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে জানায়, রাজ্যের দৈনন্দিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাজ্যপালের নেই। মন্ত্রিসভার পরামর্শ উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা সাংবিধানিক রীতির পরিপন্থী। আদালতের ভাষায়, “রাজ্যপাল সংবিধানের অভিভাবক, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নন।”

এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ ছিল, রাজ্যপাল একাধিক প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে অযথা বিলম্ব এবং হস্তক্ষেপ করছেন। বিশেষ করে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল অনুমোদনে দেরি এবং প্রশাসনিক ফাইল আটকে রাখার বিষয়টি কেন্দ্র করে এই মামলা দায়ের হয়। রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, এতে গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে সেই মতবিরোধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই মীমাংসা করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই রাজ্যপাল তাঁর বিবেচনাধিকারকে “রাজনৈতিক হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, রাজ্যপালের ভূমিকা হবে নিরপেক্ষ এবং সংযত।

এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই রায় প্রমাণ করল যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ তৈরির অভিযোগ ভিত্তিহীন ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—রাজ্যপালের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা—এই রায়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেল বলেই তাদের দাবি।

অন্যদিকে, আদালত সতর্ক করে দিয়েছে যে রাজ্য সরকারকেও রাজ্যপালের সাংবিধানিক মর্যাদা ও ভূমিকার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। এই রায় দেশের ফেডারেল কাঠামোয় কেন্দ্র–রাজ্য ও রাজ্যপাল–সরকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।