হিন্দি নয়, লক্ষ্য এবার বাঙালি আবেগ: ভোটার টানতে 'বাংলা'তেই জোর দিচ্ছে বিজেপি

হিন্দি নয়, লক্ষ্য এবার বাঙালি আবেগ: ভোটার টানতে 'বাংলা'তেই জোর দিচ্ছে বিজেপি

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26

2/24/20261 min read

হিন্দি নয়, লক্ষ্য এবার বাঙালি আবেগ: ভোটার টানতে 'বাংলা'তেই জোর দিচ্ছে বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রণকৌশলে বড়সড় বদল আনছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আসন্ন নির্বাচনে বাংলার মানুষের মন জয় করতে আর কেবল হিন্দি ভাষণের ওপর নির্ভর করতে নারাজ গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করে এবং সরাসরি বাংলা ভাষায় জনসংযোগ বাড়িয়ে ভোটার ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।

কৌশলে পরিবর্তন: হিন্দির বদলে বাংলা

বিগত নির্বাচনে বিজেপির প্রচার সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের হিন্দি ভাষণের আধিক্য দেখা গিয়েছিল। তবে এবার সেই পথে না হেঁটে দলের অন্দরে 'বাঙালি আবেগ' বা 'বেঙ্গল সেন্টিমেন্ট'-কে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • বাংলার সংস্কৃতিতে গুরুত্ব: রবিঠাকুর থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দ—বাঙালির মণীষীদের আদর্শ ও সংস্কৃতিকে প্রচারে আরও বেশি করে তুলে আনা হচ্ছে।

  • বাংলা ভাষায় ভাষণ: কেন্দ্রীয় নেতারা যাতে ছোট ছোট বাংলা বাক্য বা অন্তত ভাষণের একটা বড় অংশ বাংলা ভাষায় বলেন, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • তৃণমূলের 'বহিরাগত' তকমা খণ্ডন: বাংলা ও বাঙালির ভাষাকে আপন করে নিয়ে তৃণমূলের 'বহিরাগত' আক্রমণের পালটা জবাব দিতে চাইছে বিজেপি।

ভোটার ব্যাঙ্কে শান দিতে নতুন চাল

বিজেপি শিবিরের বিশ্বাস, কেবল উন্নয়ন বা দুর্নীতির ইস্যু নয়, বাঙালির আবেগ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে না পারলে বাংলার মানুষের সম্পূর্ণ সমর্থন পাওয়া কঠিন। তাই:

  1. স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি রাজ্যের হেভিওয়েট নেতাদের বাংলায় বক্তৃতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

  2. আঞ্চলিক ইস্যু ও ভাষা: বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক উপভাষায় লিফলেট বা প্রচারপত্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে: "বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়া আসলে তৃণমূলের 'ভূমিপুত্র' কার্ডের পালটা কৌশল। হিন্দি ভাষী নেতার ইমেজের বদলে 'বাংলার বন্ধু' ইমেজ তৈরি করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।"

উপসংহার:

বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়ে ইভিএম-এ ফায়দা তোলা যায় কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে বিজেপি যে এবার ভাষার দেওয়াল ভেঙে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছাতে মরিয়া, তা স্পষ্ট।