বর্ধমান শহরে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ, জেলাজুড়ে আক্রান্ত প্রায় ৯০—সতর্কতা বাড়াতে স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগ
বর্ধমান শহরে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ, জেলাজুড়ে আক্রান্ত প্রায় ৯০—সতর্কতা বাড়াতে স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগ
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ


বর্ধমান শহরে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ, জেলাজুড়ে আক্রান্ত প্রায় ৯০—সতর্কতা বাড়াতে স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগ
পূর্ব বর্ধমান জেলায় এইচআইভি সংক্রমণের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সামনে আসতেই স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্ধমান শহর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ৩০ জন যুবকের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস ধরা পড়েছে। জেলাজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ বলে সূত্রের খবর।
স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বক্তব্য, আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক পটভূমির মানুষ রয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক, সচেতনতার অভাব এবং নিয়মিত পরীক্ষার অভ্যাস না থাকা—এই তিনটি কারণই সংক্রমণ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রোগ নয়; যে কেউ অসুরক্ষিত আচরণের কারণে সংক্রমিত হতে পারেন।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা শিবিরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি হল নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ যৌন আচরণ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার আওতায় আনা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা সামনে এলেই সমাজে আতঙ্ক বা ভুল ধারণা ছড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাঁদের মতে, এইচআইভি এখন চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, বর্ধমানের ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছে স্বাস্থ্য দফতর। সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষাই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার—এ কথাই বারবার তুলে ধরছেন চিকিৎসকরা।
