মঙ্গলাহাটে মৃত্যুফাঁদ! বহুতল থেকে রড পড়ে মৃত্যু দুজনের, নিরাপত্তাহীন নির্মাণে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন

মঙ্গলাহাটে মৃত্যুফাঁদ! বহুতল থেকে রড পড়ে মৃত্যু দুজনের, নিরাপত্তাহীন নির্মাণে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন.

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ

2/11/20261 min read

মঙ্গলাহাটে মৃত্যুফাঁদ! বহুতল থেকে রড পড়ে মৃত্যু দুজনের, নিরাপত্তাহীন নির্মাণে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন

হাওড়া, মঙ্গলবার: ব্যস্ত মঙ্গলাহাটের দিন। চারদিকে মানুষের ভিড়, ব্যবসা-বাণিজ্যের চেনা কোলাহল। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই আচমকা নেমে এল মৃত্যু। হাওড়া মঙ্গলাহাট সংলগ্ন একটি ট্রেড সেন্টারের বহুতল থেকে লোহার রড পড়ে মৃত্যু হল দুজনের। ঘটনাকে ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন— এত বড় নির্মাণকাজ চলছিল, অথচ নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না কেন? প্রশাসন কি চোখ বন্ধ করে ছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ বহুতলে নির্মাণকাজ চলছিল। অভিযোগ, এগারো তলার ওপর থেকে প্রায় বারো ফুট লম্বা একটি লোহার রড আচমকা নিচে পড়ে যায়। নিচে তখন হাটের দিন হওয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি লোকজনের ভিড় ছিল। রডটি সোজা আঘাত করে দুজনের মাথায়। ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর জখম হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতদের নাম শেখ ইরফানুল হক (৩০) ও খোকন (৩১)। স্থানীয়দের দাবি, ইরফানুল হক প্রতি সপ্তাহের মতো এদিনও মঙ্গলাহাটে ব্যবসার কাজে এসেছিলেন। দিনের শেষে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। সেই সময়ই উপর থেকে নেমে আসে মৃত্যুর রড।

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। প্রশ্ন উঠছে— জনবহুল বাজারের একেবারে গা ঘেঁষে বহুতল নির্মাণ চললেও কেন সুরক্ষা জাল, ব্যারিকেড বা সতর্কীকরণের ব্যবস্থা ছিল না? নির্মাণ সংস্থার দাবি, কাজ বৈধভাবেই চলছিল এবং লেবার কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছিল। কিন্তু বৈধতা থাকলেই কি দায়িত্ব শেষ? নিরাপত্তার দায় নেবে কে?

ঘটনাস্থলে পৌঁছান হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দুর্ঘটনার পর তদন্তের আশ্বাস দেওয়া কি যথেষ্ট? দুর্ঘটনার আগেই নজরদারি কোথায় ছিল?

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই ওই বহুতলে নির্মাণকাজ চলছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কখনও কড়াকড়ি দেখা যায়নি। প্রশাসনের নজরদারি থাকলে কি এমন ঘটনা ঘটত?

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ট্রেড সেন্টারটি একুশ তলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনা স্পষ্ট করে দিল— নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা মনোভাব কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।

মঙ্গলাহাটের রক্তাক্ত দুপুর এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার গল্প নয়, বরং এক নির্মম প্রশ্নচিহ্ন— শহরে উন্নয়নের নামে নির্মাণের জোয়ার বইছে, কিন্তু মানুষের প্রাণের মূল্য কি ক্রমশ তুচ্ছ হয়ে যাচ্ছে? প্রশাসন ও নির্মাণ সংস্থার দায় এড়ানোর সুযোগ এবার কতটা থাকে, সেটাই এখন দেখার

নারায়ণ রতন দত্ত/হাওড়া